• নবান্নে ‘জয় শ্রীরাম’, গেরুয়া আবিরে অকালহোলিতে মাতলেন সরকারি কর্মীরা
    প্রতিদিন | ০৫ মে ২০২৬
  • বিপুল ভোটে বাংলা জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। জয় উদযাপন রাজ্যের পূর্বতন সরকারের প্রশাসনিক ভবন নবান্নেও। মুখে চওড়া হাসি সরকারি কর্মীদের। গেরুয়া আবির মেখে অকালহোলিতে মাতেন তাঁরা। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও দিতে শোনা যায়।

    রাজ্য সরকারি কর্মীদের বক্তব্য, “এখন আমাদের ভয় কেটে গিয়েছে। ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তি।” কারও কারও আক্ষেপ, “আগে ডিএ পেতাম না। তাও কাজ করতে হত।” সরকারি কর্মীদের কেউ কেউ আবার পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বেআইনিভাবে বদলির অভিযোগও তুলেছেন। তাঁদের কথায়, “আগে কোনও নিয়মের বিরোধিতা করলে বদলি করে দেওয়া হত।” তাঁদের দাবি, বিজেপির বিপুল জয়ের পর সরকারি দপ্তরের ছবিও বদলে যাবে। বদলির সমস্যা দূর হবে। ডিএ না পাওয়ার গেরোও কাটবে বলেই মনে করছেন সরকারি কর্মীরা।

    ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল। তবে বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা-সহ প্রায় গোটা রাজ্যেই ধরাশায়ী দশা তৃণমূলের। রাজ্যের ৯টি জেলা কালিম্পং, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামে খাতাই খুলতে পারেনি একদা শাসক শিবির। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এমন ভরাডুবির নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। অন্যতম প্রধান কারণ, শাসক বিরোধী হাওয়া। পরিবর্তনের যে হাওয়া তৃণমূলকে মসনদ পাইয়ে দিয়েছিল, সেই হাওয়াই এবার হারাল শাসক শিবিরকে।

    ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাছাড়া তৃণমূলের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়াটা একটু বেশিই জোরালো ছিল। সেটার অন্যতম কারণ নিচুতলার কর্মীদের দাদাগিরি, সিন্ডিকেট, কাটমানি, তোলাবাজির অভিযোগ। সেই সঙ্গে ছিল দুর্নীতির অভিযোগ। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া তৈরি হয়। যে হাওয়ায় উড়ে গিয়েছে জোড়াফুল শিবির। নবান্নে তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)