‘তৃণমূল থেকে কাউকে নয়’, দলে ‘বেনোজল’ রুখতে কড়া নির্দেশ শমীকের
প্রতিদিন | ০৫ মে ২০২৬
দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হয়েছে বিজেপির। অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বঙ্গ দখল হয়েছে গেরুয়া শিবিরের। কিন্তু জয়ের আনন্দে আবেগে ভেসে যেতে চান না বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারা। বরং দলের নিয়মশৃঙ্খলা কড়াভাবে মেনে চলার লক্ষ্যে বাড়তি সাবধানী তাঁরা। নির্বাচনী আবহে দলবদল নতুন নয়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনেক দল থেকেই অনেক নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন, তেমন কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। আর এখানেই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল থেকে কেউ আসতে চাইলে, নেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে দল কঠোর।
আসলে তৃণমূল এবং বিজেপি নেতা, কর্মীদের মধ্যে ঘনঘন দলবদলের ছবিটা গত কয়েক বছরে দেখেছে বাংলা। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে অর্জুন সিং, তাপস রায়ের মতো বহু জয়ী প্রার্থীই আদতে তৃণমূল শিবিরের। আবার উলটোটাও আছে। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পূর্ব মেদিনীপুরের দুই নেতা – পবিত্র কর, চন্দন মণ্ডলও প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু ভোটে তাঁদের পরাজয় হয়েছে। এরপরই গুঞ্জন উঠেছে, এঁরা ফের ফিরবেন গেরুয়া শিবিরে। এছাড়া তৃণমূলের পরাজিত হেভিওয়েট প্রার্থীদের কেউ কেউ নাকি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে রয়েছেন, এমন কথাও ভাসছে বাংলার নির্বাচনী হাওয়ায়।
সেসব নিয়ে সাবধানী বঙ্গ বিজেপি। আগেও দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মত ছিল, তৃণমূল থেকে কেউ বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলেও তাঁকে দলে নেওয়া যাবে না। সোমবার দু’শোর বেশি আসনে জিতে রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর এই সিদ্ধান্তে আরও জোর দিচ্ছেন তিনি। সূত্রের খবর, সোমবার রাতেই দলের ঘরোয়া বৈঠকে শমীকবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের অনেকেই এখন বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, দলে যোগ দিতে চাইবেন। কিন্তু তৃণমূল থেকে কাউকে নেওয়া যাবে না। আসলে বিজেপির মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনৈতিক দলে ‘বেনোজল’ রুখতেই শমীকের এমন পদক্ষেপ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।