‘গণনাতেই খেলা হয়েছে’, ভোটে ভরাডুবির পর দাবি ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ মমতার
প্রতিদিন | ০৫ মে ২০২৬
ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। দু’শোর বেশি আসন নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু এই হার ঠিক হার নয় বলে ফলপ্রকাশের পরেরদিন দাবি করলেন তৃণমূলনেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, ”আমরা তো হারিনি। জোর করে মিথ্যা বলে অত্যাচার করে হারিয়েছে।গণনাকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ফর্ম ১৭সি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ওরা এমনি জিতলে আমার কিছু বলার থাকত না। নির্বাচনে তো হারজিত আছে। কিন্তু আমরা হারিনি। ইস্তফা কেন দেব? কেউ যদি জোর করে ইস্তফা দিতে, আমি বলব, না এটা হবে না। এখানে বিজেপির কথায় কমিশন খেলেছে সরাসরি।”
নিজের গড় ভবানীপুর থেকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাত পর্যন্ত টানটান লড়াই হয়েছে। গণনাকেন্দ্রে নিজে ছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেখান থেকে বেরিয়ে গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। বারবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব হয়েছেন। মঙ্গলবারও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমও দেখাতে শুরু করল বিজেপি জিতছে। ৩-৪ রাউন্ড পর থেকেই আমাদের ছেলেদের উপর অত্যাচার শুরু করল। মেরেছে, মেয়েদেরও ছাড়েনি। ১৭ সি ফরম কেড়ে নিয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘আমি ভিতরে ঢুকলে আমার পেটে মারে, ম্যানহ্যান্ডেল করে। ধাক্কা দিয়ে মারতে মারতে বের করে দিল। মহিলা হিসাবে শুধু নয়, একজন মানুষ হিসেবে আমায় যা অপমান করল, তাতে বুঝলাম কর্মীদের সঙ্গে কী করেছে।”
এই নির্বাচন পর্বকে ইতিহাসের ‘কালো অধ্যায়’ বলে চিহ্নিত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘আমরা বাঘের মতো লড়াই করেছি। আমার দলের কর্মীদের অনেকে বিজেপিতে যোগ দেবে জানি। কারণ বাঁচতে হবে। তাতে আমি কিছু মনে করি না। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেই মা-মাটি-মানুষকে ধন্যবাদ। তাদের ভোট আমরা রক্ষা করতে পারলাম না। আমি ক্ষমা চাইছি তার জন্য।”
২৮ মিনিটের সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, আমার কোনও চেয়ার নেই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার কোনও অসুবিধা হচ্ছে না তাতে। এবার আমি রাস্তায় নামব।” তাঁর এই সাংবাদিক বৈঠকের পর অনেকেরই প্রশ্ন, পরাজিত হলে তো পদ ছেড়ে দিতেই হয়। তাহলে কেন ইস্তফায় নারাজ মমতা? নিয়ম বলছে, ৭ মে পর্যন্ত এই সরকারের মেয়াদ। তার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে। অন্যথায় তারপর এমনিই সরকারের আর অস্তিত্ব থাকবে না।