ভোটের আগেই বলেছিলেন, বাংলা জিতে দিল্লি দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপাবেন। বঙ্গ নির্বাচনে জনাদেশ বিপক্ষে গিয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজয়ের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই নিজের ভবিষ্যৎ রণকৌশল স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ বলে দিলেন, “এবার আমি ফ্রি বার্ড। আর কোনও পদে নেই। আমি সাধারণ কর্মীর মতো ইন্ডিয়া জোট শক্তিশালী করব।”
ভোটের ফলপ্রকাশের আগেই সোমবার তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গে ইন্ডিয়া শিবিরের নেতারা কথা বলেছেন। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফোন করেছিলেন। কথা হয়েছে অন্য নেতাদের সঙ্গেও। মঙ্গলবার কালীঘাটে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “সোনিয়াজি আমাকে ফোন করেছিলেন। রাহুল গান্ধী করেছিলেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল করেছিলেন। হেমন্ত সোরেন, তেজস্বী যাদব সঙ্গে কথা হয়েছে। অখিলেশ যাদব আজই আসতে চাইছিল। আমি বললাম কাল আসতে। তারপর একে একে সবাই আসবেন।” মমতার প্রত্যয়ী ঘোষণা, “ইন্ডিয়া টিম আমার সঙ্গে আছে। আমি এবার ছোট্ট কর্মীর মতো ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করব। খুব শক্তিশালী জোট হবে।”
মমতার অভিযোগ, “সব জায়গার মতো বাংলাতেও কেন্দ্র সরকার গণতন্ত্র ধ্বংস করল। পক্ষপাতদুষ্ট কমিশন। কাউন্টিং সেন্টার দিল্লি থেকে ক্যাপচার হয়েছিল। ইন্ডিয়া টিম আমার সঙ্গে আছে।” তাৎপর্যপূর্ণভাবে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে তৃণমূলের পাশে রয়েছে, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন খোদ রাহুল গান্ধী। তিনি মঙ্গলবারও সোশাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “বাংলা এবং অসমের ভোট চুরি হয়েছে। এটা বিজেপির বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।” এমনকী যে সব কংগ্রেস নেতা তৃণমূলের জয়ে উচ্ছ্বসিত, তাদেরও সতর্ক করে দিয়েছেন রাহুল।
তাহলে কি আগামী দিনে আরও কাছাকাছি আসবে কংগ্রেস এবং তৃণমূল? কোনওভাবে কি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তৃণমূলের? এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছে মমতা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি বলে দিয়েছেন, “এসব কৌশল নিয়ে আমি এখনই কিছু বলব না।”