বঙ্গোপসাগরের এক বিশাল এলাকা জুড়ে আকাশ পথে সতর্কতা বা ‘নোটাম’ (NOTAM) জারি করেছে ভারত। আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এই সতর্কতা। বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৩,৫৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাকে ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগাম প্রস্তুতি। এই ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভবত ‘অগ্নি-৪’ (Agni-IV), যা প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই মিসাইল ১,০০০ কেজি ওজনের পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে এবং ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
অনেকের মতে, ২০২৫ সালের মে মাসের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তির সময়েই এই পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি মূলত ভারতের সামরিক শক্তি ও প্রস্তুতির একটি বড় বার্তা। গত কয়েক মাসে ভারত ধারাবাহিক ভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পরীক্ষা বাড়িয়েছে। তবে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এ প্রসঙ্গে ‘নোটাম’ জারি করার কোনও কারণ জানানো হয়নি।
অগ্নি সিরিজ়ের পাশাপাশি কে-৪ এবং হাইপারসনিক LRAShM ভারতের সামরিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। এর পাশাপাশি ব্রহ্মস ক্রুজ় মিসাইল তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। ২০২৭ সালের শেষের দিকে উন্নত ব্রহ্মস ভারতীয় সেনা বাহিনীতে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
‘নোটাম’ জারি করার অর্থ, নির্দিষ্ট ওই সময়ে কোনও বেসামরিক বিমান নির্দিষ্ট আকাশ সীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। বিশেষ কোনও সামরিক অভিযান বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময়ে নিরাপত্তার খাতিরেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময়েও এই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এর ফলে সামরিক বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন চলাচলের পথে কোনও বাধা থাকে না। আকাশ পথে বড় কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সামরিক কার্যক্রমের গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।