এ যেন ক্রিকেট ম্যাচের ক্লাইম্যাক্স। মাত্র এক রান যেমন বদলে দিতে পারে ম্যাচের রেজ়াল্ট। তেমনি মাত্র এক ভোটে বদলে গেল রাজ্যের এক মন্ত্রীর ভবিষ্যৎ। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে একের পর এক অভাবনীয় ঘটনা। ঐতিহাসিক নজির গড়ে প্রথম বার নির্বাচনে নেমেই সবচেয়ে বেশি আসনে জিতল থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্তরি কাজ়হাগাম’। একইসঙ্গে মাত্র এক ভোটে ডিএমকে মন্ত্রী কে আর পেরিয়াকারুপ্পানের গদি উল্টে তিরুপ্পাত্তুর বিধানসভা কেন্দ্র জিতে নিলেন TVK-র প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতি। নির্বাচনী রাজনীতির ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে কি না মনে করতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
তিরুপ্পাত্তুর কেন্দ্রের এই ফলাফল ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কারণ এত কম ব্যবধানে হার বিরল ঘটনা। এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মুখ ছিলেন পেরিয়াকারুপ্পন। বহু বছর ধরে তিরুপ্পাত্তুর কেন্দ্র থেকেই নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন তামিলাড়ুর সমবায় মন্ত্রী। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল খুবই বেশি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাঁকে টক্কর দেন Tamilaga Vettri Kazhagam-এর প্রার্থী, যিনি শেষ পর্যন্ত এক ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান এতটাই কম যে, পুনর্গণনার দাবি তোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ভোটগণনার সময় নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষের আগের রাউন্ড পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন পেরিয়াকারুপ্পন। কিন্তু শেষ রাউন্ডে ভোটের হিসাব বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পিছিয়ে পড়েন। চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, গণনা শেষে TVK-র সেতুপতি ৮৩,৩৭৫ ভোট পেয়ে DMK নেতাকে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
এই ঘটনার সবচেয়ে চর্চিত দিক হলো একজন প্রবাসী ভোটারের ভূমিকা। তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলার বাসিন্দা মনিকন্দন শিবানান্থম। কর্মসূত্রে থাকেন ওমানের মাসকটে। সুদূর ওমান থেকে তিনি এ বার নিজের রাজ্যে ভোট দিতে ফিরেছিলেন। সোমবার ফল বেরোনোর পর উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন তাঁর ভোটেই জিতেছেন TVK প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একটি ভোট এই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সত্যিই মনিকন্দন ওমান থেকে ফিরে সেতুপতিকে ভোট না দিলে ফল হয়তো অন্যরকম হতো। সব মিলিয়ে, তিরুপ্পত্তুর কেন্দ্রের এই ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে— গণতন্ত্রে কোনও ভোটই ছোট নয়। প্রতিটি ভোটের মূল্য আছে, এবং সেই একটিমাত্র ভোটই কখনও কখনও ইতিহাস তৈরি করতে পারে।