• মামলা করেছিলেন কেন? শবরীমালার মূল মামলাকারীকেই ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ০৫ মে ২০২৬
  • যে মামলার প্রেক্ষিতে ৮ বছর আগে কেরালার শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সি মহিলাদের প্রবেশে ছাড়পত্র দিয়ে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, সেই মামলার মূল মামলাকারীই এ বার বিচারপতিদের প্রশ্নবাণে বিদ্ধ। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আদালতের ৯ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ মামলাকারীকে ভর্ৎসনা করে বলল, খ্যাতি-প্রচার পেতেই কি সেই সময়ে জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল?

    শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সি মহিলাদের প্রবেশে অনুমতি চেয়ে মূল মামলাটি করেছিল আইনজীবীদের একটি সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান ইয়ং লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’। ২০১৮ সালে সেই মামলায় রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পরে তা নিয়ে আপত্তি তুলে বহু পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্ট। এখন সেই সব আবেদন নিয়েই শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে। বিভিন্ন পক্ষ তাদের অবস্থান শীর্ষ আদালতের সামনে তুলে ধরছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারও শবরীমালা মন্দিরে ঋতুযোগ্য নারীদের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছে।

    এই রায় পুনর্বিবেচনার মামলায় মামলাকারী আইনজীবীদের সংগঠনের উদ্দেশে মঙ্গলবার বিচারপতি বিভি নাগারত্ন বলেন, ‘আপনারা কারা? শবরীমালা মন্দিরের বিষয়টি নিয়ে আপনারা এত কেন চিন্তিত? দয়া করে আমাদের বলুন।’ সংগঠনের আইনজীবী বলেন, ‘আমি ঈশ্বরে বিশ্বাসী।’ পাল্টা প্রধান বিচারপতি কান্ত প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি দেশের প্রধান পুরোহিত?’ বিচারপতি নাগারত্নও প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা এত বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত কেন? নিজেদের কাজে মন দিন।’

    আইনজীবীদের সংগঠনের তরফে কেন শবরীমালা মন্দিরের মামলা করা হয়েছিল, তা-ও জানতে চান বিচারপতিরা। বিচারপতি নাগারত্নই মামলাকারীর কাছে জানতে চান, ‘আমরা শুধু জানতে চাই, আপনারা ঠিক কী কারণে ওই জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন? আপনারা কী চেয়েছিলেন? এই মামলা করে কী ভালো হলো?’

    জবাবে মামলাকারী সংগঠনের আইনজীবী বলেন, ‘প্রথমে আমি একজন মহিলা। তার পর আমি একজন হিন্দু। তার পর বাকি সব। আমার নারীত্বকে আক্রমণ করা হয়েছে। আর আপনারা ভগবান আয়াপ্পার নামে কথা বলছেন? যে ভগবান আয়াপ্পা তরুণীদের পছন্দ করেন না?’ পাল্টা বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, ‘ইয়ং লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কি আর কোনও কাজ নেই? তারা কি এই দেশের বার অ্যাসোসিয়েশনের জন্য কাজ করতে পারে না? আইনি ব্যবস্থাকে সাহায্য করার জন্য কাজ করতে পারে না?’ আইনজীবী জবাব দেন, ‘কত তো জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়!’ তার প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাগারত্নও বলেন, ‘বারের জন্য কাজ করুন, তরুণ আইনজীবীদের জন্য কাজ করুন, তাঁদের কল্যাণের জন্য কিছু করুন; দেশের গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা যে সব তরুণ লড়াই করছেন, যাঁদের শহরে এসে মামলা লড়ার সামর্থ্য বা সুযোগটুকু পর্যন্ত নেই, অথচ তাঁরা অত্যন্ত মেধাবী, সুপ্রিম কোর্টে এসে এই ধরনের কাজ করার চেয়ে, বরং সেই সব মেধাবী তরুণের জন্য কাজ করুন!’

  • Link to this news (এই সময়)