রাজনৈতিক পালাবদল হলেই সবার আগে প্রশ্ন ওঠে হেরে যাওয়া দলের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক, এই আশঙ্কা থেকেই যায়। সোমবার রাত থেকেই জেলা থেকে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আসছে। লাগাতার তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মারধর, পার্টি অফিসে আগুন, ভাঙচুরের অভিযোগ আসছে। তবে, বিজেপি বাংলার মসনদে বসার পরেই দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিলেন, বিজেপির পতাকা হাতে কোথাও কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের উপরে হামলা চলবে না। তেমনটা হলে কড়া পদক্ষেপ করবে দল। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর পরিবারের কাউকে নিয়ে কুকথা বলা হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও বার্তা দেন শমীক।
সোমবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৯৩টি আসনে ভোট হয়েছে। ২০৭টি আসন পেয়েছে তারা, তৃণমূল জিতেছে মাত্র ৮০টিতে। সোমবার বিকেলের পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর, তৃণমূল কর্মীদের মারধরের অভিযোগ সামনে আসে। ভোটের ফলাফল যত স্পষ্ট হয়েছে, ততই অশান্তি, মারধরের অভিযোগও বেড়েছে।
এ বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন শমীক। শমীকের কথায়, ‘পরিষ্কার ভাবে সকলকে একটা কথা জানিয়ে দিচ্ছি, বিজেপির পতাকা নিয়ে কোথাও কোনও রাজনৈতিক হিংসা হলে, কোনও তৃণমূল অফিসে আক্রমণ হলে, মুখ্যমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি, বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যদি কদর্য ভাষা ব্যবহার করা হয়, তাকে দল থেকে বের করে দেবো। সেই অধিকার আমার পার্টির সংবিধান আমাকে দিয়েছে।’
শমীক জানান, কোনও রকম রাজনৈতিক হিংসা হলে তা প্রশাসনকে দেখতে হবে। যদি কোথাও কোনও হিংসা হয়, তা রুখতে প্রশাসন যেন কোনও রং বিচার না করে। সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয় থেকে এ দিন একই কথা বলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘বিজেপি বিজেপি হয়েই থাকতে চায়। তৃণমূল হতে চায় না। তৃণমূলকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। ওদের মতো আচরণ করবেন না। আমরা জানি ২০১৮ থেকে বিজেপির লোকজনের উপরে কী অত্যাচার হয়েছে। আমরা বলব ধৈর্য ধরুন। পুলিশ তদন্ত করবে। তৃণমূলের জুতোয় পা গলাবেন না।’