• ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি’, কমিশনকে ‘ভিলেন’ বলে তোপ মমতার
    এই সময় | ০৫ মে ২০২৬
  • বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল (TMC)। এ বার নতুন সরকার শপথ নেবে। গণতান্ত্রিক রীতি মেনে রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। যদিও কালীঘাটের বাড়িতে মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে পদত্যাগ করতে অস্বীকার (Mamata Banerjee Refuses to Resign) করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। হার স্বীকার করতেও রাজি নন তিনি। স্পষ্ট বলে দিলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি।’ একই সঙ্গে নিজেকে ‘ফ্রি বার্ড’ বলে মুক্ত কন্ঠে ঘোষণা তাঁর।

    সোমবার গণনা শেষের পরেই এ দিনের সাংবাদিক সম্মেলনের ঘোষণা করেছিলেন মমতা। সেই মতো বিকেল ৪টেয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হন তিনি। মমতা-অভিষেকের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিমরা।

    সাংবাদিক সম্মেলনের শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন আর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শাণান মমতা। স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন, ‘কমিশনই ভিলেন।’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে কমিশনের অফিসারদের নিয়ে বিজেপি ভোট লুট করেছে বলে অভিযোগ তাঁর। মমতার কথায়, ‘লড়াই তো বিজেপির সঙ্গে হয়নি। কমিশনের সঙ্গে হয়েছে।’ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সরাসরি ‘গুন্ডা’ বলে তোপ দেগে মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা সিআরপিএফ নাকি গুন্ডা বাহিনী?’ তৃণমূলকে বাঘের সঙ্গে তুলনা করেন, ‘মহারাষ্ট্র, বিহারে যা করেছে এখানেও তাই করতে চেয়েছে। কিন্তু আমরা বাঘের মতো সেটা ধরে ফেলেছি।’

    মমতার সাফ কথা, ‘নির্বাচন কমিশন ভিলেন। ১০০ আসন লুট করেছে।’ এর পরেই তিনি জানিয়ে দেন, লোকভবনে গিয়ে তিনি ইস্তফা দেবেন না। ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। তবে তৃণমূল সুপ্রিমোর পাল্টা প্রশ্ন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করেছে।’ তিনি বিস্মিত, ‘ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন?’ গোটা ইন্ডিয়া জোট তাঁর পাশে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘সব নেতা আমাকে ফোন করেছেন। সোনিয়াজি ফোন করেছিলেন, রাহুল ফোন করেছিলেন, কেজরিওয়াল ফোন করেছিলেন। অখিলেশ আজই আসতে চেয়েছিলেন, আমি আগামীকাল আসতে বললাম।’

    নির্বাচনের দিন পর থেকেই প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই নিয়েও তোপ দাগেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘ভোটের দু’দিন আগে আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একের পর এক প্রশাসনিক বদল। এমন সন্ত্রাস আমি কোথাও দেখিনি।’ তবে ‘চেয়ার’ তিনি চান না বলেও দাবি করেন। মমতার কথায়, ‘আমি এখন ফ্রি বার্ড।’ একই সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসার বার্তাও দিয়েছেন মমতা। সোজাসুজি বলে দিয়েছেন, ‘আমি রাস্তার লোক। রাস্তাতেই থাকব। আবার ঘুরে দাঁড়াব।’ সাংবাদিক সম্মেলনের শেষ লগ্নে সবাই একসঙ্গে হাতে হাত ধরে একজোট থাকার বার্তাও দেন মমতা-সহ তৃণমূলের নেতারা।

  • Link to this news (এই সময়)