ফলপ্রকাশের পর থেকেই ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলা। বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীদের মারধর, বাড়ি ভাঙচুরের খবর মিলছে। এর মধ্যেই মধু মণ্ডল (৪৬) নামে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার নিউটাউনের বালিগড়ি চক পাচুড়িয়া এলাকার ঘটনা। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটা নিছকই দুর্ঘটনা। বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর পরেই একটি অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কমল মণ্ডল পলাতক।
এ দিন পুনর্গণনার পরে রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রে ৩১৬ ভোটে জেতেন বিজেপির পীযূষ কানোরিয়া। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এর পরেই মধু দলবল নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য কমল মণ্ডলের বাড়িতে চড়াও হন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁর বাড়ি এবং পার্টি অফিস দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেন। সেই সময়ে কমল বাড়িতে ছিলেন না। কোনও ঝামেলাও হয়নি।
বিকেলে মধু ফের কমলের বাড়িতে গিয়ে একই হুমকি দেন বলে অভিযোগ। সেই সময়ে বাড়িতেই ছিলেন কমল। মধুর হুমকি শুনে বেরিয়ে আসেন তিনি। কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তৃণমূল নেতা মধুকে ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ। টাল সামলাতে পারেননি ওই বিজেপি কর্মী। মাটিতে পড়ে যান। তখন তিনি মধুর বুকে সপাটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান মধু।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপি কর্মীরাই তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই মধুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা কমলের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ। চলে দেদার ভাঙচুর। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বিধাননগর কমিশনারেটের টেকনো থানার পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কমল মণ্ডল পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রাতেই মধুর বাড়িতে যান বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সব রকম ভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। অরূপ মণ্ডল নামে এক বিজেপি কর্মীর অভিযোগ, ‘মধুকে বুকে লাথি মেরে পিটিয়ে খুন করেছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।’ একই সঙ্গে রাতের মধ্যে তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মধু হার্টের রোগী। বুকে স্টেন বসানো ছিল। তার উপরে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তাই ধাক্কা মারতেই পরে যান। এটা নিছকই দুর্ঘটনা।