• ঘাড়ধাক্কা না দিলে উনি পদত্যাগ করবেন না: অধীর
    আজকাল | ০৬ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার রাজ্যজুড়ে বয়ে যাওয়া ‘গেরুয়া সাইক্লোনে’ পরাজিত হয়েছেন বহরমপুরের হেভিওয়েট কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। ‘ধর্মীয় মেরুকরণের’ ভোটে নিজের পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে মঙ্গলবার অধীর রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “মমতা ব্যানার্জি হেরে যাওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে আনন্দিত”। এর পাশাপাশি মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে যে ১০০ আসন চুরির অভিযোগ করেছেন তাকেও তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে উড়িয়ে দেন অধীর।

    মঙ্গলবার বহরমপুরে কংগ্রেস পার্টি অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর বলেন, “বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এখন ১০০ আসন চুরির অভিযোগ তুলছেন, ঠিকই আছে কিন্তু এ রাজ্যে কত ১০০ আসন মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর দল চুরি করেছে তার কী ঠিক আছে? আমি তাঁকে বলব,  আপনি হেরেছেন, আগে সেই হার ভদ্রভাবে স্বীকার করুন। ক্ষমতায় থাকার জন্য আপনি এত লালায়িত কেন?” 

    এরপরই অধীর দাবি করেন, বাংলার মানুষ মমতাকে তাড়াতে চেয়েছিল। তিনি হেরে যাওয়ায় বাংলার মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছে। তিনি বলেন, “আপনি (পড়ুন মমতা ব্যানার্জি) নিজেই চোর। পঞ্চায়েত, পুরসভার সব কিছুতে লুট করেছেন আপনি। আর আপনার হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এসেছে। আপনি বিজেপিতে বারবার মন্ত্রী ছিলেন, তখন আপনার বিজেপিকে ভাল লেগেছে। আপনি তাদের নিজের জোটসঙ্গী করেছেন। এখন হারার পর আর ভাল লাগছে না!” এর পাশাপাশি অধীর আজ অভিযোগ করেন, মমতা পশ্চিমবঙ্গে একা হাতে কংগ্রেস এবং বামেদেরকে খতম করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের সাহায্য নিয়ে আপনি ২০১১ সালে এই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তারপর নিজের হাতে কংগ্রেসকে খতম করেছেন।  এর ফলে আপনি বিজেপির কাছে রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন।” অধীরবাবু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এই বছর যে ধর্মীয় মেরুকরণের ভোট হয়েছে তা আগে কখনও হয়নি। বাংলার ভবিষ্যৎ কী হবে তা আমি জানি না। তবে সোমবার বাংলা জুড়ে ‘গেরুয়া সাইক্লোন’ হয়েছে। যে ধর্মীয় মেরুকরণ আমদানি হয়েছে তা এরাজ্যে আগে ছিল না। হিন্দুরা মনে করেছে সব কিছু তাঁরা পরে পেতে পারেন আগে মমতা ব্যানার্জিকে তাড়াতে হবে। না হলে পশ্চিমবঙ্গ, ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদেরকে এই ভয় দেখানো হয়েছিল। তার ফলে হিন্দুরা সঙ্ঘবদ্ধভাবে ভোট করেছে। এর ফলে আমার মত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি দুর্বল হয়েছে। হিন্দুরা চেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা ব্যানার্জিকে উচ্ছেদ করতে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। এই ফলাফলে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আনন্দিত।” অধীরবাবু আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ যাঁর হাতে ছিল, তাঁর হাতে বাংলা থাকলে আর দেখতে হতো না। অত্যাচার, দুর্নীতির সব সীমা তিনি ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এই রাজ্য যদি এখনই আবার ভোট হয় তাহলে উনি আবার হারবেন। এখন আর ওনার কেঁদে লাভ নেই। তবে রাজ্যে যারা ক্ষমতায় আসছেন, তারা কেমন তা দেখার জন্য আমাদেরকে সময় দিতে হবে। আমি আশা করব, বিজেপি তাদের ইস্তেহারে যা লিখেছে সেই সমস্ত কথা রাখবে। যদি না রাখে তাহলে আমরা থাকলাম প্রতিবাদ করার জন্য।”

    ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে হেরে যাওয়ার পর এখনও মমতা মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ না করায় অধীরবাবু বলেন, “উনি ঘাড়ধাক্কা না খেলে কিছু করেন না। এরপর হয়তো রাজ্যপাল এবং জনগণ ঘাড় ধাক্কা দেবেন, তারপর উনি পদত্যাগ করবেন।”

    বহরমপুরের পরাজিত কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী বলেন, “আমি চাইব মমতা ব্যানার্জি এবং খোকাবাবুর বাড়ির সামনে থেকে সমস্ত গার্ডরেল খুলে নেওয়া হোক। তবে আমার ধারণা খোকাবাবু যে হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করেছে তার তদন্ত থেকে বাঁচার জন্য বিজেপির হাত-পা ধরতে পারেন।” বহরমপুর কেন্দ্র থেকে নিজের পরাজয় স্বীকার করেনি অধীরবাবু বলেন, “লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর থেকে হেরেই আমি ফের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে লড়তে এসেছিলাম। আমি এই কেন্দ্র থেকে হারব না জিতব আমার জানা ছিল না।  আমার পরাজয়ের পেছনে কোনও  অভিযোগ আমি করছি না। এখানে হিন্দুত্বের ‘সাইক্লোন’ বয়ে গিয়েছে। আমিও হিন্দু, কিন্তু বিজেপি-র মতো হিন্দু নই। তাই হয়তো জেতার মতো ভোট পাইনি।”
  • Link to this news (আজকাল)