মিল্টন সেন,হুগলি: নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরেই শহর জুড়ে বিজেপি কর্মীদের দাপাদাপি। একাধিক জায়গায় শুরু হয়েছে গোলমাল। তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন দলীয় কার্যালয় দখল নেয় অতি উৎসাহী বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। খবর কানে যেতেই বিধায়ক সুবীর নাগের কড়া হুঁশিয়ারি। জানান কোনও বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না।
সোমবার ৪২ হাজার ৪১০ ভোটে চুঁচুড়ায় জিতেছে বিজেপি প্রার্থী সুবীর নাগ। এর পর থেকে সারা রাত ও মঙ্গলবার সকালেও চুঁচুড়া শহরের বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করার চেষ্টা করে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। খবর পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা দিলেন বিধায়ক সুবীর রাগ। বললেন, "দলের তরফে কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এর পর বিজেপির তরফে বিধায়কের এই নির্দেশ টোটো করে সারা শহরে মাইকের মাধ্যমে প্রচার করার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, মঙ্গলবারই জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব ওই পার্টি অফিসগুলি ফের তৃণমূলের নেতৃত্বকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। খুলে নেওয়া হয় বিজেপির পতাকা এবং সমস্ত ফ্লেক্স।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী হুগলিতে ১৮টির মধ্যে ১৬ টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। এই জয়ের খবর আসার পর থেকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর এবং বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দখলের অভিযোগ উঠতে থাকে। গণনা চলাকালীন চুঁচুড়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাপাসডাঙ্গা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস বিজেপি দখল করে নেয়। একইসঙ্গে দখল করে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিসও। ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বিজেপির পতাকা। রবীন্দ্র নগরে একটি তৃণমূলের অফিসে বিজেপি প্রার্থীর ব্যানার ও পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। বাঁশবেড়িয়াতেও ১৭ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের কয়েকটি অফিস দখলের অভিযোগ ওঠে। ভদ্রেশ্বরেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। এ ছাড়া, ডানকুনির ১১ নম্বর ওয়ার্ডেও তৃণমূলের পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ ওঠে বিজেপির তরফে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির যুব নেতা রাজিব ঘরামী জানান, "তৃণমূলের অফিস কিছু উৎসাহী মানুষ এসে দখল নিয়েছিল আমরা তাঁদের বিরত করেছি। বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য কোথাও তৃণমূল কোথাও সিপিএমের কার্যালয় দখল করা হচ্ছে। আমরা যেখানে খবর পাচ্ছি সেখানে গিয়ে আটকাচ্ছি।প্রতিটা দলেরই তাদের মতো করে কাজ করার অধিকার আছে। আমরা বিজেপির ভাবমূর্তি কিছুতেই নষ্ট হতে দেব না।"
অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেছেন, "ক্ষমতা কখনওই চিরস্থায়ী নয়। কোথাও তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এগুলো বিজেপি ঠিক করছে না। আমি কয়েকজন বিজেপি নেতার সঙ্গে কথা বলে এগুলো করতে বারণ করেছি। আমি পুলিশকেও বলেছি। পুলিশ তার কর্তব্য পালন করবে। তা না হলে আমরা বিরোধী হিসেবে যেটা করার সেটা করব।"