আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। ২০৭ টি আসন জিতে বিজেপি প্রথমবার বঙ্গে সরকার গঠন করবে। তবে গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে ফের একবার কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফের একবার কমিশনকে তোপ দিলেন।
এদিন অভিষেক বলেন, ‘দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধে ৬ টা পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ অবিলম্বে প্রকাশ্যে আনুক নির্বাচন কমিশন। তাহলেই বোঝা যাবে ভোটে কারচুপি হয়েছে কি হয়নি। ভোট লুঠ করেই ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ১০০ জায়গায় কারচুপি হয়েছে। আমি অভিযোগের কপি দিচ্ছি। রেকর্ডে যে ইভিএম ছিল আর গণনাকেন্দ্রে যে ইভিএম ছিল তার সিরিয়াল নম্বর ম্যাচ করছে না। সোমবার এই তথ্য আরওকে দেওয়া হয়েছিল। বেশিরভাগ মেশিনে চার্জ অনেক বেশি ছিল। কমিশন এই দাবি মিটিয়ে দিক। মানুষের রায় তৃণমূল মাথা পেতে নেবে। কিন্তু যেভাবে পরিবেশ তৈরি করে মানুষকে ভোটার লিস্ট থেকে বাইরে বের করে ইডি, সিবিআই, এনআইএ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা মানা যায় না।’
প্রসঙ্গত নির্বাচনে ভরাডুবির পর এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। সেখানেও অভিষেক ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মমতা জানান, ‘একশো আসন জোর করে লুঠ করা হয়েছে। এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এরকম কোনও ভোটে দেখিনি। আমি ভোটে হারিনি। কেন পদত্যাগ করব। আমরা হারিনি, তাই রাজভবন কেন যাব?’
মমতার অভিযোগ, ‘সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। ভোটের আগে আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে। ভোটের দিন দুয়েক আগেই আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানিয়ে দেন মমতা। বলেন, ‘ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করাই হবে লক্ষ্য। এখন আমি মুক্ত পাখি। মানুষের সেবায় কাজ করব। রাস্তায় ছিলাম। রাস্তায় থাকব।’ মমতা আরও অভিযোগ করেন, ‘উত্তর থেকে দক্ষিণে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকাতেই ছিল না। ছিল বিজেপি গুন্ডাদের দাপট। তৃণমূল কর্মীদের উপর ক্রমাগত অত্যাচার করা হয়েছে।’
হারের জন্য নির্বাচন কমিশনকেও দায়ী করেছেন মমতা। মমতা জানান, ‘বিরোধী ঐক্য শক্তিশালী করতে বুধবার অখিলেশ আসছে। একে একে সবাই আসবে। সোনিয়াজি, রাহুলের সঙ্গে কথা হয়েছে।’ মমতার আরও প্রশ্ন, ‘এটা সিআরপিএফ না বিজেপির গুন্ডা বাহিনী। আমরা সিপিএমের কোনও পার্টি অফিস দখল করিনি। তিনদিন করে বিজেপির কেন্দ্রীয় বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। এবারের ভোটের সন্ত্রাস সমস্তকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।’
মমতার আরও অভিযোগ জানান, ‘কাউন্টিং থেকে আমাকে মারতে মারতে বের করা হয়েছে। যেভাবে আমার উপর অত্যাচার হয়েছে, একজন মহিলা হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমি ধারণা করতে পারি। প্রথমে আমার গাড়ি থামানো হয়, পরে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।’ শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘পেটে লাথি, পিঠে ধাক্কা মারা হয়েছে। হিস্ট্রি উইল রিপিট। উই উইল বাউন্স ব্যাক।’
মমতা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানান, ‘আমরা অ্যাকশন নেব, সেটা এখনই জানাচ্ছি না। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি হবে।, যে কমিটিতে পাঁচ জন সাংসদ ছাড়াও আরও পাঁচ জন থাকবেন।’