• মাসে আয় ২৫০০! গলি থেকে রাজপথে পৌঁছে কলিতা মাঝি বোঝালেন, এভাবেও বিধায়ক হওয়া যায়
    প্রতিদিন | ০৬ মে ২০২৬
  • আর্থিক অনটন নিত্যসঙ্গী! সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা! পরিচারিকার কাজ করে মাসে আয় মেরেকেটে ওই আড়াই হাজার। আউশগ্রামের সেই কলিতা মাজি আজ হবু বিধায়ক।

    গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার পাত্রপাড়ার বাসিন্দা কলিতা মাজি। বাপের বাড়ি মঙ্গলকোটের দিকশো গ্রামে। স্বামী পেশায় কলমিস্ত্রি। এক ছেলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সামান্য খেটেখাওয়া পরিবার থেকে উঠে আসা। সংসারে ঘানি টানতে বিয়ের পরই পরিচারিকার পেশায় যাওয়া। ২০১৪ সালে বিজেপির বুথ কর্মী হিসাবে রাজনীতি যোগ। সংসার সামলিয়ে রাজনৈতিক দায়িত্বও সামলেছেন। নজরে পড়েন নেতাদের।

    ২০২১ সালে এই আউশগ্রাম থেকেই বিজেপি প্রার্থী করে তাঁকে। সেই বছর তাঁর হয়ে প্রচারে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও। কিন্তু জয় অধরাই থেকে যায়। ১১৮১৫ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন কলিতা। কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচনী যুদ্ধে তাঁর উপরই ভরসা রাখে বিজেপি। ফের আউশগ্রাম থেকেই প্রার্থী করা হয় তাঁকে। দলের মুখ রক্ষা করেছেন তিনি।

    এবার তাঁকে প্রার্থী করার পর দলের কয়েকজন বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু সেই আপত্তি ধোপে টেকেনি। বিজেপির প্রার্থী হলেও নিজের কাজ ছাড়েননি কলিতা। সকালে দু’টি বাড়িতে কাজ শেষ করে দুপুরে প্রচারে বেরিয়েছেন। প্রতিটি বুথে ঘুরেছেন। বাদ যায়নি কোনও গলিও। এবার তিনি মোট ১,০৭,৬৯২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের শ্যামাপ্রসন্ন লোহার পান ৯৫,১৫৭ ভোট। ১২,৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী কলিতাদেবী।

    আউশগ্রাম থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী কলিতাদেবী এই জয় ক্রেডিট দিচ্ছেন জনগণ ও বিজেপি নেতৃত্বকে। তিনি বলেন, “এই জয় আমার কিছু ক্রেডিট নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশীর্বাদ ও জনগণের রায়েই এই জয়।” কলিতাদেবীর কথায়, “২০২১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়েছিলাম। উনি আমাকে ‘বোন’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। আমি পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে আশীর্বাদ করেছিলেন। সেই আশীর্বাদের মূল্য পেয়েছি। এখন আমার লক্ষ্য এলাকার উন্নয়ন।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)