‘বসন্ত বিলাপ’ ছবির চিন্ময় রায় আর অনুপ কুমারের সেই মই নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটা মনে আছে? অনেকটা সেই কায়দাতেই হনহন করে হাঁটছেন দু’জন। কাঁধে মই। হাতে একটা রঙের ডিবে। তার গা থেকে গেরুয়া রং গড়িয়ে পড়ছে। দু’জনের পিছনে চার-পাঁচ জনের একটা দল। প্রত্যেকের হাতে বিজেপির পতাকা। আর মুখে জয় শ্রীরাম স্লোগান। অভিযোগ, তৃণমূলের কোনও পার্টি অফিস দেখলেই গেরুয়া রং করে দিচ্ছেন তাঁরা। এই দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে তাঁদের কাঁধে।
সোমবার গণনা শেষ হয়েছে। ২০৭টি আসনে জিতে বাংলার মসনদে বসেছে বিজেপি। তার পরেই শুরু হয়েছে ‘রংবদল’ অভিযান। অভিযোগ, মঙ্গলবার অশোকনগরের রাস্তায় রাস্তায় এমন মই কাঁধে ছুটে চলার দৃশ্য দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূলের নীল-সাদা কিংবা সবুজ রং করা পার্টি অফিস, দেওয়াল লিখন দেখলেই দ্রুত হাতে গেরুয়া রং করে দিচ্ছেন তাঁরা। চটপট চারদিকে বেঁধে দিচ্ছেন বিজেপি আর বজরং দলের পতাকা। তার পরেই গেরুয়া আবির খেলায় মেতে উঠছেন সকলে। একেবারে হইহই ব্যাপার।
তবে বেশিক্ষণ এক জায়গায় স্থির হয়ে আনন্দ করতে পারছেন কই! তার মাঝেই ফোন আসছে। ওপার থেকে নতুন কোনও পার্টি অফিসের সন্ধান দিচ্ছেন কোনও কর্মী, ‘একটা তৃণমূলের পার্টি অফিস দেখতে পেয়েছি। চলে আয়।’ ঠিকানা শুনেই মই, রং আর দলবল নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন তাঁরা।
রং করার মতো কিছু না পেলে শুধু বিজেপির পতাকা লাগিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন। হাবড়া ১ কুমরা গ্রাম পঞ্চায়েতে যেমন। অভিযোগ, এ দিন বিজেপির দলবল নদীর স্রোতের মতো এসে অভ্যস্ত হাতে ‘কুমরা পঞ্চায়েত’ লেখা বোর্ডের পাশে ঝটপট গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে নাচতে শুরু করে দেন। ডিজে বাজে। গেরুয়া আবিরও ওড়ে।
তবে রং করার কথা অস্বীকার করেছে বিজেপি। বরং দায়টা তৃণমূলের উপরেই চাপাচ্ছে তারা। তবে ঘটনা অস্বীকার করেনি। বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস স্পষ্ট বলে দিলেন, ‘এরা সব তৃণমূলের। গত কাল পর্যন্ত জোড়াফুলের পতাকা হাতে ঘুরেছে। পালাবদলের পরেই গেরুয়া আবির নিয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করছে। কেউ কেউ আবার গেরুয়া রং করে দিচ্ছে।’ ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, ‘এই জিনিস বরদাস্ত করা হবে না।’ কিন্তু কে শোনে কার কথা! তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখাপাত্র জয় ঘোষ বললেন, ‘এই ধরনের অরাজকতায় আদতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়।’
তবে অন্য রকমের ছবিও ধরা পড়েছে একের তিন পাওয়ার হাউস এলাকায়। পালাবদলের পরেই অশোকনগরের টোটো ইউনিয়ন অফিসের দখল নিয়েছিল বিজেপি। এদিন সকালে বিজেপি নেতৃত্ব গিয়ে টোটো চালকদের হাতেই অফিসের চাবি তুলে দেন। বিজেপি যুব মোর্চার জেলা কমিটির সদস্য সৌমেন বসু বলেন, ‘আমরা কোনও ভাবেই নাক গলাব না।’ যারা দখল নিয়েছিল, তারা কেউ বিজেপির নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এমন দৃশ্য বিরল বলেই মনে করছেন অনেকে। তাঁদের দাবি, অকাল বসন্ত এসেছে। তৃণমূলের পার্টি অফিস দেখলেই গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দিয়ে যাচ্ছে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা।