সপ্তম পে কমিশন গঠন হবে। মিলবে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ। সোমবার ফলাফলের পর থেকেই নবান্ন থেকে রাইটার্স বিল্ডিং হয়ে উত্তরকন্যা, কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্র এই আলোচনাই চলছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। পে কমিশন গঠন হলে পদস্থ কর্তা থেকে গ্রুপ ডি স্টাফ— মোটা টাকা বেতন বাড়তে পারে। অন্তত প্রাথমিক হিসাবে এমনই উঠে আসছে। আবার অনেকের মতে, পে কমিশনের আগেই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ ঘোষণা হতে পারে। সোমবার বিকাল থেকে মঙ্গলবার প্রায় সারাদিনই সরকারি অফিসের কর্মীদের মধ্যে এই নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও জল্পনা হয়েছে। পাশাপাশি বকেয়া ডিএ, যা কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের দেওয়ার কথা, তাও সর্বস্তরের কর্মী এবং পেনশনাররা পাননি। ফলে তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।
এ দিকে বুধবার, ৬ মে সুপ্রিম কোর্টে DA মামলার একটি বিশেষ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তার ঠিক আগের দিন রাজ্যের পক্ষ থেকে এই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
কলকাতায় এসে বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই উল্লেখ ছিল, সরকারি কর্মীদের ডিএ নিশ্চিত করা হবে। ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু হবে। ফলে আশায় বুক বেঁধেছেন সরকারি কর্মীরা। হিসাব চলছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ধরেও।
কী এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর? খুব সহজ ভাষায় বুঝতে হলে—এটা হলো সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর একটি গুণক (multiplier)। ধরুন কারও বর্তমান বেসিক বেতন ১০ হাজার টাকা, যদি ফ্যাক্টর ২.৫৭ হয়, তাহলে নতুন বেসিক বেতন ১০,০০০× ২.৫৭ = ২৫,৭০০ হবে। আপনার পুরনো বেতনকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় (factor) গুণ করে নতুন বেতন ধার্য হয়। কেন এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ব্যবহার হয়? পে কমিশন যখন বেতন বাড়ায় তখন সব কর্মচারীর বেতন একসঙ্গে আপডেট করতে হয়। সহজ ভাবে হিসাব করার জন্য এই ফ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সের উপরে ভিত্তি করেই এই গুণক ঠিক হয়। আর এই নিয়েই চলছে জোর চর্চা।
তবে সরকারি আধিকারিকদের একটা বড় অংশের মতে, ৪ শতাংশ ডিএ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চলতি বছর অন্তর্বর্তী বাজেটে চার শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তিনি জানিয়েছিলেন, ১ এপ্রিল থেকে ৪ শতাংশ হারে ডিএ বাড়বে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। তবে তা নিয়ে এখনও অর্ডার হয়নি। ফলে নতুন সরকার এসে এই ৪ শতাংশ ডিএ নির্দেশ কার্যকর করবে নাকি নতুন হারে ডিএ দেবে তা নিয়েও চর্চা চলছে। এখন কেন্দ্র ও রাজ্য ডিএ এর ফারাক ৪২ শতাংশ।
সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল বলেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যে ডিএ নিয়ে কোথাও আন্দোলন হয়নি। ত্রিপুরা সরকার সবচেয়ে কম ৪১ শতাংশ ডিএ দেয়। নতুন সরকার ডিএ নিয়ে যে কথা বলেছে তা রাখবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো মঙ্গলবার ডিএ মামলার তিন সপ্তাহের জন্য মামলার শুনানি স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। আগের সরকার কর্মী-বিরোধী যে সব রিভিউ পিটিশন করেছিল, তা তুলে নেবে।’
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড কুণাল মিমানি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে একটি বিশেষ আর্জি পাঠিয়েছেন, মামলাটি তিন সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তা পূরণ হয়নি। তবে এ বার প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেতন কমিশন, ডিএ নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁদের কথায় ভরসা করতে হবে। কর্মচারী সমাজও তাঁদের উপর বিশ্বাস রেখেছে।’