• মিড–ডে মিলে বরাদ্দ কি ফিরবে, প্রশ্ন শিক্ষামহলে
    এই সময় | ০৬ মে ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যে পরিবর্তনের পরে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণে এখন সময়ের অপেক্ষা। কেন্দ্রেও রয়েছে বিজেপির সরকার। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের ৭৭ হাজারের বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে ৮০ লাখেরও বেশি পড়ুয়ার মিড–ডে মিল বাবদ কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কি আবার মিলবে, এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে শিক্ষামহলে। ঘটনা হলো, ২০২৩–এর মাঝামাঝি সময় থেকে পিএম–পোষণ ও সমগ্র শিক্ষা মিশন খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ মিলছে না। পিএম–পোষণ (মিড–ডে মিল) খাতে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দপ্তর পড়ুয়াদের মিড–ডে মিলের সঠিক হিসেব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ করা হয়। সমগ্র শিক্ষা মিশনও স্কুলে অনুদান বন্ধ করে দিয়েছিল। স্কুলগুলির নামের আগে ‘পিএমশ্রী’ না–লিখলে কম্পোজিট গ্রান্টের অর্থও বন্ধ হবে বলে জানানো হয়েছিল।

    রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক বার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল, দু’টি খাতেই যেহেতু রাজ্য সরকারও ৪০ শতাংশ অর্থ দেয়, তাই সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত এবং পোষিত স্কুলের নামের আগে ‘পিএমশ্রী’ লেখা যাবে না। এই টানাপড়েনে ২০২৩ থেকে দুই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ মিলছে না। অথচ একটি অর্থ বছরে এই দু’টি প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অনুদান বাবদ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাওয়ার কথা ছিল রাজ্যের।

    রাজ্য ও কেন্দ্রের দড়ি টানাটানিতে বিপাকে পড়েছিল স্কুলগুলি। অভিযোগ, কেন্দ্রের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীনে জেলায় জেলায় মডেল স্কুল তৈরি করতে হবে। সেই স্কুল তৈরি করে ‘প্রধানমন্ত্রী স্কুল’ হিসাবে চিহ্নিত করলে তবেই বিশেষ বরাদ্দের পাশাপাশি সমগ্র শিক্ষা মিশনের টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু রাজ্য কেন্দ্রের প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করেছিল। এখন রাজ্যে বিজেপি মন্ত্রিসভা গঠন হলে সেই সমস্যা মিটবে কি না, পড়ুয়াদের সার্বিক উন্নয়নে হাজার হাজার স্কুল প্রাপ্য অর্থ পাবে কি না, সে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

    মিত্র ইনস্টিটিউশনের (ভবানীপুর ব্রাঞ্চ) প্রধান শিক্ষক রাজা দে বলেন, ‘খুদে পড়ুয়াদের মিড–ডে মিলে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা ও স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কেন্দ্রের অর্থ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তা না হলে সবারই ক্ষতি।’ পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কলকাতা জেলার উপদেষ্টা ভীমসেন বিশওয়ালের কথায়, ‘কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার হওয়ায় এ বার অর্থ পাওয়া নিয়ে জট কাটবে বলেই আশা করছি। সদ্য নতুন অর্থবর্ষ শুরু হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পরেই অবিলম্বে এ ব্যাপারে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগী হওয়া উচিত।’ কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অবশ্য বার বার জানিয়েছেন, সর্বশিক্ষার বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে কারণ রাজ্য সরকার পিএমশ্রী স্কুলের বিষয়টিই মানছে না। এটি একটি সামগ্রিক প্যাকেজ। সুবিধা পেতে হলে পুরোটা গ্রহণ করতেই হবে।

  • Link to this news (এই সময়)