এই সময়: বাংলায় ৪২টা রেল–প্রকল্পে বিনিয়োগ ঘোষণা হয়েছে অন্তত ৬৮ হাজার কোটি টাকার। কিন্তু ওই সব প্রকল্প এগোনোর পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমির সমস্যা। রেলের বক্তব্য, প্রকল্পগুলির জন্যে যত জমির প্রয়োজন, তার মাত্র ২৭ শতাংশ রেলের হাতে এসেছে। ৭৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ আটকে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। জমির হিসেবে এর পরিমাণ ৪,৬৬২ হেক্টর। তবে বাংলার রাজনীতিতে পালাবদলের পরে বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সৌজন্যে জমির সমস্যা কেটে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী রেলের আধিকারিকরা।
কবি সুভাষ–বিমানবন্দর মেট্রো রুট অর্থাৎ কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের কাজ দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে চিংড়িঘাটায় মাত্র ৩৭৭ মিটার অংশে পিলার বসানো যায়নি বলে। রেলের পক্ষ থেকে যত বারই ওই অংশে তিন দিনের ট্র্যাফিক ব্লক নিয়ে কাজটি সেরে ফেলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে, রেল–আধিকারিকদের অভিযোগ, প্রতিবারই রাজ্য সরকারের অসহযোগিতায় অনুমতি মেলেনি। কলকাতা হাইকোর্ট বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দিলেও লাভ হয়নি। বিরক্ত হাইকোর্ট কাজ শুরুর দিন বেঁধে দেওয়ার পরেও কাজ শুরু হয়নি। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে চরম ভর্ৎসনা শুনতে হয় রাজ্যের আইনজীবীকে। মেট্রোর আধিকারিকদের আশা, এ বার নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলির কাজ গতি পাবে।
রেল সূত্রের খবর, বাংলায় যে প্রকল্পগুলির কাজ আটকে রয়েছে, তার অন্যতম তারকেশ্বর–বিষ্ণুপুর (৮৩ কিমি) রেল–প্রকল্প। গোঘাট–কামারপুকুর অংশে স্থানীয় আন্দোলনের জন্যে ২০১৬ থেকে এই অংশের কাজ আটকে রয়েছে। আটকে দেশপ্রাণ–নন্দীগ্রাম (১৮.৫ কিমি) প্রকল্পের কাজও। এই অংশে কাজ শুরু হয়েছিল সেই ২০০৯-‘১০–এ। পূর্ব মেদিনীপুরে এই প্রকল্পর কাজও জমি অধিগ্রহণের সমস্যায় আটকে। নৈহাটি ও রানাঘাটের মধ্যে থার্ড লাইন তৈরির কাজও জমির সমস্যায় থমকে রয়েছে। অত্যন্ত ব্যস্ত এই সেকশনে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যে থার্ড লাইন খুব প্রয়োজনীয়।
রাজ্যের থমকে থাকা রেল প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে চান্ডিল–আনারা–বার্নপুর অংশে থার্ড লাইন তৈরির কাজও। জলেশ্বর থেকে দিঘা পর্যন্ত অংশে রেললাইন বসানোর কাজও দীর্ঘদিন ধরে জমি অধিগ্রহণের সমস্যায় আটকে রয়েছে। এই তালিকায় আছে নবদ্বীপ ঘাট থেকে নবদ্বীপ ধাম পর্যন্ত অংশে লাইন তৈরির কাজও। এত দিন ধরে বাংলায় রেল–প্রকল্প নিয়ে কথা উঠলেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব তো বটেই এমনকী রেল বোর্ডেরও একাধিক সদস্যও সরাসরি অভিযোগ করেছেন, বাংলার শাসকদলের বিরোধিতার কারণেই রেল–প্রকল্পে জমি মিলছে না। ফলে অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজের কাজ কিছু করা যায় না।
কিন্তু এ বার আর কেন্দ্র–রাজ্য বিরোধের কথা বলা যাবে না। কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যেও বিজেপির সরকার — স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায় ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’। তাই এ বার বাংলার নতুন প্রশাসনের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে জমির জট কাটিয়ে রেলের থমকে থাকা প্রকল্পে গতি আনা।