• বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় উদয়নারায়ণপুরে গ্রেপ্তার ১
    এই সময় | ০৬ মে ২০২৬


  • এই সময়, উলুবেড়িয়া: ফের খবরের শিরোনামে উদয়নারায়ণপুর!

    আজ থেকে কয়েক দশক আগে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার কান্দুয়া গ্রামে হাতচিহ্নে ভোট দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন কংগ্রেস সমর্থকের হাত কেটে নেওয়া এবং কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্যকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছিল সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এ বার বিধানসভা ভোটের ফল বেরোতে না বেরোতেই সেই উদয়নারায়ণপুরেই রাজনৈতিক হিংসার বলি হলেন এক যুবক। মৃতের নাম যাদব কর (৪৫)। বাড়ি উদয়নারায়নপুরের দেবীপুর এলাকায়। নিহতের পরিবারের লোকেদের দাবি, যাদব বিজেপির সমর্থক ছিলেন। ভোটের ফল ঘোষণার পরে সোমবার রাতে তিনি যখন দলীয় কর্মী–সমর্থকদের সঙ্গে একটি জায়গায় খাওয়াদাওয়া করছিলেন, সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর উপরে অতর্কিতে হামলা চালায়। লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। তাতেই মৃত্যু হয়েছে যাদবের। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি করার অপরাধে যাদবকে খুন করেছে তৃণমূলের লোকেরা। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন তৃণমূলের বহু নেতা–কর্মী।

    বাম আমলে রাজনৈতিক হিংসার জন্য মাঝে মধ্যেই খবরের শিরোনামে উঠে আসত উদয়নারায়ণপুর। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরেও সেই ধারাবাহিকতায় খুব একটা ছেদ পড়েনি। এ বারের বিধানসভা ভোটের আগে উদয়নারায়ণপুরের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মী–সমর্থকদের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ফল ঘোষণা হওয়ার পরেও উদয়নারায়ণপুরে হিংসার কোনও বিরাম নেই।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে দল ক্ষমতায় আসায় আনন্দ উদযাপনের জন্য সোমবার রাতে উদয়নারায়ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মানশ্রী রামচক গ্রামে বিশেষ খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিলেন বিজেপি সমর্থকরা। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েই আক্রান্ত হন যাদব কর। এই ঘটনার জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করেছে পরিবারের লোকজন। বিজেপির তরফেও একই দাবি করা হয়েছে।

    প্রতিবেশী প্রীতি বর বলেন, ‘বিজেপির জয়ের আনন্দে আমরা নিজেরাই চাঁদা তুলে ফিস্ট করছিলাম। খাওয়াদাওয়া শেষ হওয়ার পরে আমরা সামনের একটা পুকুরে বাসন ধুচ্ছিলাম। ওই সময় কয়েকজন এসে যাদবকে লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। তারা বলে, আমরা কেন জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছি। লাঠির আঘাতে যাদব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।’

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মারধরের জেরে অচৈতন্য হয়ে পড়েন যাদব। পরে পাড়ার লোকজন তাঁকে নিয়ে যান উদয়নারায়ণপুরের জঙ্গলপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্মমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মৃতের স্ত্রী কৃষ্ণা বলেন, ‘আমার স্বামী দিনমজুরের কাজ করতেন। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। আমার স্বামীই ছিলেন একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি। আমি চাই, আমার স্বামীকে যারা খুন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

    উদয়নারায়ণপুর কেন্দ্রে এ বার জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঁজা। তার জন্যই দলের সক্রিয় কর্মী যাদবকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপির পরাজিত প্রার্থী প্রভাকর পণ্ডিত। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র বিজেপি করায় এবং জয় শ্রীরাম বলার অপরাধে আমাদের দলীয় সমর্থককে মেরে ফেলা হলো। এখন তো প্রশাসন আর তৃণমূলের দলদাস নয়। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে চলবে। সেই নিরপেক্ষতার নিরিখে আমরা সুবিচার হবে। দোষীরা ছাড়া পাবে না।’ তৃণমূলের কোনও নেতা অবশ্য এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি। সমীর পাঁজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, সম্ভবত কোনও পুরোনো বিবাদকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত উত্তম গায়েনকে মঙ্গলবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)