• আয়ুষ্মানে মিলবে স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা? ভরসা দিচ্ছে বিজেপি
    এই সময় | ০৬ মে ২০২৬
  • অনির্বাণ ঘোষ

    রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী সোমবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করায় অনুমোদন দেবে। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল জমানার স্বাস্থ্যসাথী উঠে গেলেও আয়ুষ্মান ভারত কার্ডে যাতে সব সুবিধাই মেলে, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে বঙ্গবাসী। বিজেপি সূত্রের খবর, তারাও চাইছে মানুষের মনে কোনও বঞ্চনার ছাপ না ফেলতে। তাই আশা করা হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যের চিকিৎসাতেও কোপ বসাবে না নতুন সরকার।

    ২০১৭-তে রাজ্যে চালু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী। যাতে ৫ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্যবিমার পারিবারিক কভারেজ মেলে। গোড়ার দিকে কে পাবেন এই কার্ডের সুবিধা, আর কে পাবেন না— তা নিয়ে কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও পরবর্তীকালে সেই প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা সকলের জন্য সম্প্রসারিত করে দেয় সরকার। কেন্দ্রের এনডিএ সরকার ২০১৮-তে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করলেও তা এই রাজ্যে চালু করতে দেননি মমতা। তাঁর যুক্তি ছিল, আয়ুষ্মান ভারতের চেয়ে ভালো সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী তো আগে থেকেই রয়েছে রাজ্যে।

    পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসে তাই আয়ুষ্মান ভারত চালুর কথা ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। কিন্তু এর পরেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, স্বাস্থ্যসাথী উঠে গিয়ে আয়ুষ্মান ভারত চালু হলেও কি একই সুবিধা মিলবে? কেননা, কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পে রয়েছে বেশ কিছু আর্থসামাজিক ও বয়সের শর্ত। একমাত্র ৭০ বছর বয়সের পরেই আর্থসামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে মেলে আয়ুষ্মান ভারত। আবার ১৬ বছরের কম বয়সে মেলে না প্রকল্পের সুবিধা। ১৬-৬৯ বছর বয়সিরা তখনই আয়ুষ্মান ভারতের সুযোগ পান, যখন তাঁরা আর্থিক ভাবে দুর্বল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন।

    তাই কারও বড় জমি থাকলে, কেউ আয়কর দিলে কিংবা সরকারি অথবা বেসরকারি চাকরি করলে অথবা ভদ্রস্থ বেতন পেলে, এই কার্ডের সুযোগ মেলে না। বাড়িতে দু’চাকা বা চারচাকা কিংবা বড় ফ্রিজ় অথবা মাছ ধরার মোটরচালিত নৌকো থাকলেও মেলে না প্রকল্পের সুবিধা। শহরের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরও বেশি— সুবিধা মেলে মাত্র ১১টি প্রান্তিক শ্রেণির পেশার ক্ষেত্রে। তবে গৃহবধূদের জন্য উন্মুক্ত এই প্রকল্প। সে জন্যই স্বাস্থ্যসাথীতে অভ্যস্ত রাজ্যের প্রায় আড়াই কোটি পরিবারের একটা বড় অংশই চেয়ে রয়েছে, রাজ্যে চালু হতে চলা আয়ুষ্মান ভারত কার্ডে যেন অন্তত স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধাগুলো সব মেলে।

    সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মানস গুমটা বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে আমদের চাহিদা— যেখানে দরকার সেখানেই, যখন প্রয়োজন তখনই, নিখরচায় যথোপযুক্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত হোক রাজ্যে। যেখানে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রয়োজন, সেখানে যেন সকলেই সেই সুযোগ পান।’ একই সুর সরকারি চিকিৎসকদের আর এক সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের গলায়। তবে তিনি চান, বিমা নির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে যে ভাবে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যবসায়ীদের পকেটে চালান হয়ে যাচ্ছে, নতুন সরকার জনস্বার্থে তা যেন বন্ধ করে।

    বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে আসা চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁয়ের নাম রাজনৈতিক মহলে ভেসে বেড়াচ্ছে নতুন সরকারের অন্যতম সম্ভাব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে। বিজেপির ভাবনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আয়ুষ্মান ভারতই চালু হবে বাংলায়। কিন্তু আমরা সতর্ক রয়েছি, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডহোল্ডার যেন চালু পরিষেবার সমস্ত সুযোগ পান, কোনও সুবিধা থেকে বঞ্চিত যেন কেউ না হন। আগে সরকার গঠন হোক, তার পর এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসবে দল ও মন্ত্রিসভা। সরকারি হাসপাতালের যাবতীয় চিকিৎসাও এখনকার মতো বিনামূল্যেই পাবেন সকলে।’

  • Link to this news (এই সময়)