• তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর, ভোট পরবর্তী হিংসায় লাগামের বার্তা জয়ী প্রার্থীদের
    এই সময় | ০৬ মে ২০২৬
  • এই সময়, ব্যারাকপুর: সোমবার বিকেলের মধ্যেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে বাংলার মসনদে বিজেপি বসতে চলেছে। এই আবহেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বরাহনগর থেকে বীজপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর ও দখলের খবর এসেছে। তৃণমূলের অনেক নেতা আতঙ্কে বাড়িছাড়া। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। যদিও এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অর্জুন সিং থেকে সজল ঘোষ, কৌস্তভ বাগচি থেকে শিল্পাঞ্চলের জয়ী বিজেপি প্রার্থীরা। হামলাকারীদের উদ্দেশে তাঁদের স্পষ্ট হুশিয়ারি, যারা সোমবার দুপুরের পর থেকে কপালে গেরুয়া তিলক কেটে বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে নিজেকে বিজেপি কর্মী পরিচয় দিয়ে তাণ্ডব করছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।’

    মঙ্গলবার সকালে টিটাগড়ে তৃণমূলের দমদম–ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা পার্টি অফিসের দখল নেয় বিজেপি কর্মীরা। ওই কার্যালয়েই বসতেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক এবং আইএনটিটিইউসি সভাপতি সোমনাথ শ্যাম। এ দিন‍ আচমকা সেখানে ঢুকে পড়েন বিজেপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা ও কর্মী। কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও ফ্লেক্স খুলে ছিঁড়ে দেওয়া হয়। টাঙিয়ে দেওয়া হয় বিজেপির ফ্লেক্স। ব্যারাকপুর যুব মোর্চা সভাপতি বিশাল জয়সওয়াল বলেন, ‘এই পার্টি অফিস আমরা মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম।’

    বিজেপির অভিযোগ, এই অফিস তৃণমূলই দখল করে রেখেছিল। ভাঙচুর করা হয় টিটাগড়ে বিটি রোডের ধারে প্রাক্তন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর অফিস। জিনিসপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ টিটাগড় জিসি রোডে তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি নওশাদ আলমের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। যদিও পরে ব্যারাকপুরের জয়ী বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচি বলেন, ‘যে অশান্তি করবে তাকে পুলিশ দিয়ে তুলিয়ে দেব।’

    বরাহনগরের বড় দুর্গাপুজো করে ন-পাড়া দাদা ভাই সঙ্ঘ। এই ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা বরাহনগরের তৃণমূল নেতা তথা বরাহনগর পুরসভার সিআইসি অঞ্জন পাল। সোমবার রাতে ওই ক্লাবের অফিসে হামলা চালানো হয়। বাইরে থাকা দুর্গার মুখ, ফ্যান, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। কর্মীদের সংযত থাকার বার্তা দিয়েও কাজ না হওয়ায় মঙ্গলবার পথে নামেন বরাহনগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ। তৃণমূলের যে কয়েকটি অফিস ভাঙচুর হয়েছে সেখানে গিয়ে তিনি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বার্তা দেন, ‘কোনও দলের অফিস আমরা ভাঙব না। সোমবার দুপুরের পর থেকে যারা বিজেপি করছে তাদের করতে হবে না। প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি কড়া হাতে দমন করতে।’

    পানিহাটি পুরসভাও পুরো বিজেপির পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। গেটের সামনে প্রধানমন্ত্রী ও পানিহাটির জয়ী প্রার্থী রত্না দেবনাথের ছবি দেওয়া বড় কাটআউট রাখা হয়েছে। এ দিন চেয়ারম্যান বা অন্য কোনও পুরকর্তা পুরসভায় আসেননি। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বঙ্কিমপল্লিতে পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র দলীয় কার্যালয় এবং পুরসভার কমিউনিটি হল দখল করে নেওয়া হয়েছে। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠগোলা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সি-ব্লক, এইচবি টাউনে পূর্ব পানিহাটির প্রধান দলীয় কার্যালয়, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোলা কদমতলা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাবাগান–সহ বিভিন্ন পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে দখল করা হয়েছে।

    খড়দহ পুরসভার উপ পুরপ্রধান সায়ন মজুমদারের কল্যাণনগর বটতলা পার্টি অফিসেও সোমবার রাতে ভাঙচুর চালানো হয়। তাঁর ফ্ল্যাটে গিয়েও গালাগালি করা হয়। ভাঙচুর করা হয় খড়দহ স্টেশন রোডে শহর তৃণমূলের পার্টি অফিস, বিটি রোডের ধারে সূর্য সেন নগরের অফিস, রাসখোলা ঘাটের একটি অফিসেও। খড়দহ ব্লকের সভাপতি প্রসেনজিৎ সাহার বাড়ি মঙ্গলবার দুপুরে বাইক বাহিনী গিয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ এবং জলের লাইন কেটে দেয়। পাতুলিয়ার উপপ্রধান কিশোর বৈশ্য, জেলা পরিষদ সদস্য সুপ্রিয়া ঘোষ, ব্যারাকপুর–২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুকুমার সিং, রঞ্জিত ধর–সহ বিলকান্দা ১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।

    নোয়াপাড়া, জগদ্দল, নৈহাটি, ভাটপাড়া, বীজপুরেও তৃণমূলের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। তৃণমূলের সভাপতি পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘বিজেপির নেতারা মুখে ভাঙচুর না করার কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না৷ আমরা কিন্তু ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে হামলার পরিবর্তে রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনিয়েছিলাম।’ নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং বলেন, ‘তৃণমূলের কোনও নেতা–কর্মী, সমর্থক বা সাধারণ নাগরিকদের উপর অত্যাচার করা যাবে না। নিজেদের সংযত রাখুন এবং আইনের শাসনের উপর বিশ্বাস রাখুন।’

  • Link to this news (এই সময়)