• রাতে দখল তৃণমূল কার্যালয়, সকালে ফিরিয়ে ক্ষমাপ্রার্থী পদ্ম
    এই সময় | ০৬ মে ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যে পালাবদলের পরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কার্যালয় দখল করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে বালুরঘাট পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে তৃণমূল অফিস ভাঙচুরের পরে দখল করা হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার সকালে দখল হওয়া অফিস ফের তৃণমূলকে ফিরিয়ে দিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। শুধু তাই নয়, বিজেপির লাগানো পতাকা ও ফেস্টুন খুলে সেখানে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় তৃণমূল নেতাদের সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

    এ দিন বালুরঘাট টাউন বিজেপি সভাপতি সমীরপ্রসাদ দত্তের নেতৃত্বে বালুরঘাট পুরসভার ১, ৩ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয় আনুষ্ঠানিক ভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা জোড়াফুলের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাঁচটি নতুন চেয়ার কিনে দেন সমীর। তাঁর মতে, রাজনীতিতে সৌজন্যবোধ থাকাটা জরুরি। শুধু বালুরঘাট নয়, এ দিন তপন ব্লক তৃণমূল কার্যালয়ের দরজা থেকে বিজেপির পতাকা সরিয়ে তৃণমূলের হাতে তুলে দেন জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক গৌতম রায়। সমীর বলেন, 'সোমবার বালুরঘাট শহরের তিনটি ওয়ার্ডে তৃণমূেলর পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালানোর পরে বিজেপির ফ্ল্যাগ লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি জানার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের নির্দেশে তৃণমূল কর্মীদের তাঁদের পার্টি অফিস ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিজেপির ফ্ল্যাগ খুলে সেখানে তৃণমূলের ফ্ল্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে চেয়ার ভাঙা হয়েছিল তাও কিনে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিক।'

    বালুরঘাট পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার অভিজিৎ সাহা বলেন, 'ভোটগণনার রাতে বিদ্যুৎ বন্ধ করে কিছু দুষ্কৃতী ওয়ার্ডের পার্টি অফিস ভেঙে দিয়েছে। তবে আমি শুনেছি, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বিজেপির কেউ নয়। এ দিন বিজেপির টাউন সভাপতি এসে নতুন চেয়ার কিনে দিয়েছেন। রাজনীতিতে এমনটাই হওয়া দরকার।'

    অন্যদিকে, রায়গঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণীকে হারানোর পরে মঙ্গলবার সকালে রায়গঞ্জে বন্দর শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের অফিস থেকে পতাকা খুলে ফেলতে শুরু করেন বিজেপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী। দলীয় কর্মীদের ওই কাজ থেকে বিরত করে তৃণমূলের পতাকা ফের লাগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কৌশিক বলেন, 'আমরা এ ধরনের কার্যকলাপ একেবারেই বরদাস্ত করব না। কর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।' সোমবার রাতে দখল নেওয়া হেমতাবাদ তৃণমূল কার্যালয় এ দিন সকালে খুলে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। করণদিঘি থেকে সদ্য জয়ী বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস মঙ্গলবার সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে যান। দু'জনে মিলে চা খেয়ে বেশ কিছুটা সময় কাটান। বিরাজ বলেন, 'হাজী সাহেবের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছে।' মহম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, 'বিজেপি বিধায়কের সৌজন্যতায় আমি খুশি।'

    আলিপুরদুয়ারের কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশাল লামা জয়ী হওয়ার পরে কালচিনি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে দিলেন বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার রীতিমতো দলীয় পতাকা লাগিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় আতঙ্কিত তৃণমূল দলের প্রধান জয়ন্তী গুরুং দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন।

    সোমবার আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসন দখল করে বিজেপি। অভিযোগ, তারপরেই কালচিনি পঞ্চায়েত অফিস দখল করা হয়। খবর পেয়ে জেলা বিজেপি সভাপতি মিঠু দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তিনি বলেন, 'এই ঘটনার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন দল রেয়াত করবে না। প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।' তাঁর সংযোজন, 'এই ধরনের ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, রাতারাতি বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে অন্য কেউ আমাদের দলকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে।' আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টর মৃদুল গোস্বামী বলেন, 'মানুষ কি এই পরিবর্তন চেয়েছিল? রাজ্য জয় করার পরে পঞ্চায়েত অফিস দখল করে নিলাম, এটা হতে পারে না। সরকার গঠন করার পর অনাস্থা এনে পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে দিতে পারে। কিন্তু পঞ্চায়েত অফিস দখল করতে পারে না।' আলিপুরদুয়ার-২ ও কুমারগ্রাম ব্লকের দুটি পঞ্চায়েত অফিসেও তালা মেরে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি কর্মী বলেন, 'আসলে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে যাতে ফাইল লোপাট না হয় সেজন্য তালা মেরে দেওয়া হয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)