রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরছে রাইটার্সে? দোতলায় থাকতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর অফিস
আজ তক | ০৬ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক সদর দফতর কোথায় হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে রাইটার্স বিল্ডিং। পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনের দ্বিতীয় তলাকেই সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর দফতর হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
যদি নতুন সরকার নবান্ন থেকে সচিবালয় সরিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাইটার্সে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর চালু করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় তলার সংস্কার ও মেঝে তৈরির কাজ অনেকটাই শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে মূলত অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ফিনিশিংয়ের কাজ।
পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দ্বিতীয় তলার নির্দিষ্ট অংশটি প্রশস্ত ও খোলামেলা হওয়ায় এটি প্রশাসনিক দফতরের জন্য আদর্শ। এখান থেকে বি. বি. ডি. বাগ এলাকার দৃশ্যও স্পষ্ট দেখা যায়। দফতরের চূড়ান্ত বিন্যাস অবশ্য ভবিষ্যৎ মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দফতর ছিল প্রথম তলায়। তবে সেই তলার সংস্কার কাজ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। তুলনায় দ্বিতীয় তলার কাজ অনেকটাই এগিয়ে।
২৪০ বছরেরও বেশি পুরনো এই ঐতিহাসিক ভবনটি ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচিবালয় নবান্নরয় স্থানান্তর করার আগে পর্যন্ত রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। ফলে আবার সেই ঐতিহ্য ফিরে আসার সম্ভাবনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ বাড়ছে।
১০২ কোটি টাকার এই সংস্কার প্রকল্পে ভবনের পুরনো কাঠামো সংরক্ষণ করে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। যদিও এখনও ভবনের কিছু অংশে মেরামতির কাজ বাকি রয়েছে, তবুও মূল ব্লকের বড় অংশ এখন ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠছে।
ঐতিহাসিক দিক থেকেও রাইটার্স বিল্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৭৮০ সালে থমাস লিওনের নকশায় নির্মিত এই ভবনটি একসময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ‘রাইটার’দের আবাস হিসেবে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে এটি ব্রিটিশ প্রশাসন এবং স্বাধীনতার পর রাজ্য সরকারের কেন্দ্রীয় দফতরে পরিণত হয়। ১৯৩০ সালে বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত, দীনেশ গুপ্ত ঐতিহাসিক অভিযানের সাক্ষীও এই ভবন।