• ‘আমি তৃণমূলপন্থী নই, হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিল’, এবার ডিগবাজি কবীর সুমনের?
    প্রতিদিন | ০৬ মে ২০২৬
  • গত মার্চ মাসে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে এসআইআরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন কবীর সুমন। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বাংলায় গৈরিক সূযোর্দয় হতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে শিল্পী বললেন, “আমি তো তৃণমূলপন্থী নই!” গত দেড় দশকে বঙ্গবাসী যে তৃণমূল আর সুমনকে সমার্থক বলেই জেনে এসেছে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। কিন্তু এবার রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের আবহে কি কবীর সুমন ‘ডিগবাজি’ খেলেন? শিল্পী নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতেই মঙ্গলবার রাত থেকে এহেন প্রশ্নেই সরগরম নেটভুবন।

    বাংলায় পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাব্বিশে বাংলার মসনদে মোদি। ‘পরিবর্তনের ঢেউ’য়ে প্রথমবার রাজ্যে পদ্ম ফুটেছে। বাংলার রাজনীতির অতীত ট্রেন্ড ঘাঁটলে দেখা যায়, পরিবর্তনের নির্বাচনে শাসক শিবির বরাবরই ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়। ঠিক যেমনটা এগারো সালে ঘটেছিল। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ম্যাজিক ফিগারের গণ্ডি পেরিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বাংলা দখল করেছে বিজেপি। আর বঙ্গের এহেন গেরুয়া সুনামির মাঝেই বিস্ফোরক কবীর সুমন! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শিল্পী জানান, “আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।” এখানেই শেষ নয়!

    সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের বিধ্বংসী রেজাল্ট নিয়েও নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন কবীর সুমন। তাঁর কথায়, “যেভাবে ভোটটা হল, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে, ট্যাঙ্ক ঢুকবে। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন সবুজসাথী। বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কতবড় কাজ। এসব কাজের পর হয়তো একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।”

    পাশাপাশি রাজ্যে নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে কবীর সুমনের সংযোজন, “সিপিএম বা তৃণমূল আমলে মেয়েদের নিরাপত্তা কিন্তু সুনিশ্চিত ছিল। আমি আশা করব, নতুন সরকার যেন সেই ধারা বজায় রাখেন। এখনও ভোট হলে আমি তৃণমূলকেই দেব। তবে সেরকম কোনও কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাঁদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। আমি তাঁদের জন্য গান বাঁধব। তাঁদের পাশে থাকব।” শিল্পীর সাক্ষাৎকারের এহেন অংশ দাবানল গতিতে ছড়িয়ে পড়তেই ওয়াকিবহালমহলের একাংশের প্রশ্ন, তাহলে কি এবার সরাসরি নিজেকে বাম সমর্থক বলে ঘোষণা করলেন কবীর সুমন?
  • Link to this news (প্রতিদিন)