বাম আমল থেকে তৃণমূল। কখনও একজন, কখনও দু’জন। বিধানসভা ভোটে যেই জিতুক, সব সময়েই মন্ত্রী পেয়েছে কালনা। এ বার কালনা মহকুমার চারটি আসনেই বিজেপি বড় ব্যবধানে জিতেছে। দু’টি আসন দুই বিদায়ী মন্ত্রীর। চর্চা চলছে, এ বারও কি শিকে ছিঁড়বে কালনার।
ভোটের প্রচার পর্বে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাউকে সামনে আনেনি। ফল বেরনোর পর থেকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে চর্তা শুরু হয়েছে হাটে-বাজারে। কোন বিধায়ক মন্ত্রীসভায় যেতে পারেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। বাম আমলে, ১৯৯৩ সালে মন্ত্রী হয়েছিলেন কালনা শহরের বাসিন্দা অঞ্জু কর। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে প্রথমে জায়গা না পেলেও পরে মন্ত্রী হয়েছিলেন স্বপন দেবনাথ। ২০২১ সালে তিনি প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী হন। ওই বছর মন্তেশ্বর থেকে জিতে গ্রন্থাগার মন্ত্রী হন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। মন্তেশ্বর ছাড়া কালনা মহকুমার বাকি তিনটি বিধানসভা রয়েছে বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার মধ্যে। এই সাংগঠনিক জেলার সাতটি আসনের সব ক’টিই পেয়েছে বিজেপি। দলের নেতা-কর্মীদের আশা, এ বারের কেউ না কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন।
কালনা আদালতের আইনজীবী পার্থসারথী কর বলেন, ‘‘নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে চলছে। যে চার জন এখান থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন, তাঁদের একাধিক জনের মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে।’’ শহরের বাসিন্দা প্রকাশ গুপ্তের আবার দাবি, কাজের এবং কাছের একজন মন্ত্রী চান তাঁরা। যাঁর হাত ধরে উন্নয়ন আসবে এলাকায়। মন্ত্রী পেলে তাঁতশিল্পের উন্নতি হবে বলেও তাঁদের আশা। পূর্বস্থলী ১ ব্লকের বাসিন্দা আনন্দ বসাক বলেন, ‘‘জেলায় তাঁত শিল্প ধুঁকছে। চাষে লাভ নেই। বড় কোনও শিল্প নেই। কাজের অভাবে দলে দলে মানুষ ভিন্ রাজ্যে চলে গিয়েছেন। তাই শুধু মন্ত্রীত্ব পেলেই হবে না, তাঁকে কাজের মানুষও হতে হবে।’’ বিজেপির এক জেলা নেতার আশা, কালনা মহকুমার দুই মন্ত্রীকে হারাতে নিখুঁত পরিকল্পনা করতে হয়েছিল দলকে। বহু মানুষ সমর্থন করেছেন। দল নিশ্চয় কালনায় কথা মনে রাখবে।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য রাজীব ভৌমিকের অবশ্য দাবি, ‘‘ভারতীয় জনতা পার্টি আঞ্চলিকতায় বিশ্বাসী নয়। যিনি মন্ত্রী হবেন, তিনি কোনও নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি হবেন না। তিনি তাঁর দফতরের গোটা রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করবেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘মন্ত্রী যিনি হবেন, তিনি মানুষের কাজে সারা বছর ছুটে বেড়াবেন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। দল সে ভাবেই বাছাই করবে।’’