যা ছিল বেআইনি। জরিমানা দিয়েই তা হচ্ছে আইনি। তার পর সেই বালি আসছে বাজারে। তাতে অবশ্য বাড়ছে দাম। গত কয়েক বছরে দাম দ্বিগুণ হয়েছে।
সরকারি অনুমোদিত খাদান থেকে বালি তুলতে গেলে লাগে সিও (ক্যারিং অর্ডার)। কার্যত এটাই বালি তোলার অনুমতিপত্র। কোথা থেকে কতটা পরিমাণ বালি তোলা যাবে তা বিশদে উল্লেখ থাকে সেখানে। অনমুতিপত্রে উল্লিখিত পরিমাণ বালি প্রথমে তুলে তা বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ, তার পরও খাদান থেকে তোলা হচ্ছে বালি। এখন কড়াকড়ি বেশি। তাই অতিরিক্ত বালি পরিবহণের ঝুঁকি অনেকে বেশি। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণ বালি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফেলে রাখা হচ্ছে খাদানের কাছেই। অর্থাৎ বালি মজুত করা হচ্ছে।
বালির পুরো বিষয়টি এখন নিয়ন্ত্রণ করে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভলেপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড’। বালি মজুত করতে হলে এই সংস্থার অনুমতি প্রয়োজন। অনলাইনে আবেদন করার পর অনুমতি মিললে তার নথি (হার্ড কপি) জেলাশাসকের কাছে জমা দিতে হয়। অনুমতি বিহীন বালি মজুতের ক্ষেত্রে রয়েছে জরিমানার বিধান। যারা বৈধ খাদান থেকে অনুমতিপত্রে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি বালি তুলে তা মজুত করে রাখছেন তাদের ক্ষেত্রে জরিমানা কম। যারা পুরোটাই বেআইনি ভাবে বালি মজুত করছেন তাঁদের জরিমানার পরিমাণ বেশি। বৈধ খাদান থেকে তোলা বালির ক্ষেত্রে জরিমানা দিলে ফের মেলে অনুমতিপত্র। অর্থাৎ তা বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তাই। তবে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত। কারণ, এ ক্ষেত্রে নিলাম হয়। দু’টি ক্ষেত্রেই যেহেতু সরকারি ভাবে বালি মজুত ও তার পরিবহণ, বিক্রির জন্য জরিমানা দিতে সেহেতু বাজারে দামও বাড়ে অনেক।
সরকারের বক্তব্য, বালি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে তারা। বেআইনি বালি আটকাতে হচ্ছে অভিযান। জরিমানা আদায়। এরই মধ্যে গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকে ও লালগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেআইনি ভাবে বালি তোলার অভিযোগ উঠেছে। বসে নেই প্রশাসনও। গত কয়েক মাসে শুধুমাত্র জামবনি থানার পুলিশ অবৈধ ভাবে বালি পাচারের ঘটনায় প্রায় ৩৫টি মামলা করেছে। প্রায় ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছেন। এমনকি ২০ হাজার সিএফটি বালি বাজেয়াপ্ত করেছে। এমনকি লালগড়ের ধামরো এলাকায় নিয়ম না মেনেই বালি মজুত করার অভিযোগ উঠেছিল। বেআইনি ভাবে বালি মজুত করার অভিযোগে জরিমানা করেছে ভূমি দফতর। বিনপুর-১ ব্লকের ধামরো ছাড়াও লালগড়ের আরও তিনটি জায়গায় বিনা অনুমতিতে বালি মজুত করার অভিযোগে জরিমানা করেছে ভূমি দফতর। জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেন, ‘‘বেআইনি ভাবে বালি মজুত করার জন্য আমরা চারটি জায়গায় জরিমানা করেছি। নিয়ম মেনেই বালি খাদান চলছে। বেআইনি ভাবে খাদান চলছে না। আমাদের কড়া নজরদারি রয়েছে।’’ প্রথমে এসআইআর পরে ভোটপর্ব শুরু হওয়ায় সরকারি কর্মীদের একাংশ তাতে ব্যস্ত। লাগাতার অভিযান ও জরিমানা আদায় প্রক্রিয়া এখন কিছুটা গতিহীন বলে অভিযোগ। বেআইনি ভাবে বালি মজুত করে ঘুরপথে কি সিও পাচ্ছেন? জেলাশাসক বলছেন, ‘‘নিয়ম মেনেই জরিমানা করা হয় ও অ্যাকশন করা হয়।’’
এ কথা ঠিক চোরা-বালির রমরমা আগের মতো নেই। তবে মৃত্যু শূন্য হয়নি। অভিযোগ, বেপরোয়া ভাবে বালি বোঝাই লরি চলাচলের জেরে গত কয়েকমাসে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বালিকে কেন্দ্র করে থেমে নেই চাপান-উতোর। জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি দেবাশিস কুণ্ডু বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকার প্রতিনিয়িত নিত্য নতুন পদ্ধতিতে দুর্নীতি করেছে। বালির ক্ষেত্রেও তা করেছে। বেআইনিকে আইনি করে খাদান মালিকদের সুবিধা করে দিয়েছে। এ বার পরিস্থিতি বদলাবে।’’
জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ‘‘বিজেপির লোকজনই বালির দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূলের কেউ বালির সঙ্গে জড়িত নয়।’’