• হতদরিদ্র চাষিই এখন বিধায়ক
    আনন্দবাজার | ০৬ মে ২০২৬
  • নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই মাটির বাড়িটুকু ভেঙে গিয়েছে। সারানোর অর্থ নেই! স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে ঠাঁই হয়েছে শ্বশুরবাড়িতে। পান আর ধান চাষ করে পেটের ভাত জোগাড় করেন।সেই তিনি এ বার প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন।

    বঙ্গ রাজনীতিতে তৃণমূল কিংবা বিজেপি-র জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই কোটিপতি। তাঁদের ঠিক বিপরীতে অবস্থান আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের থেকে উঠে আসা খেজুরির পদ্ম বিধায়ক সুব্রত পাইকের। সোমবার ৩২,৬৬৬ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের প্রার্থী তথা ব্যবসায়ী রবীনচন্দ্র মণ্ডলকে হারিয়ে বিধায়ক হন সুব্রত। খেজুরি -২ ব্লকের ছোট কষাফলিয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বয়স ৫৮ বছর। ২০২৩ সালে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে তৃণমূলের হেভিওয়েট তথা প্রাক্তন বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডলকে হারিয়ে জেলা পরিষদ সদস্য হয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের বাম কর্মী হিসেবেও এলাকায় পরিচিত ছিলেন।

    বছর তিনেক আগে বসত বাড়ি ভেঙে পড়লে অর্থের অভাবে বাড়ি আর সারাতে পারেননি। বেশ কিছুদিন সপরিবার থেকেছেন শ্বশুরবাড়িতে। পারিবারিক সূত্রের খবর, ছোট একটা জমি রয়েছে তাঁর। তাতে পানের বরজ করেছেন। আর ২০০০ সালে বাড়ির পাশেই ৪৫ ডেসিমেল চাষের জমি কিনেছিলেন। সেখানে ধান চাষ করেন। স্ত্রী শেফালী বলছেন," অত্যন্ত কষ্টে সংসার চলে। ছেলে সৌরভ বিএড পাশ করে রাজ্যে কাজ পাননি। ভিন্ রাজ্যে একটি সংস্থায় কাজ করতেন। তবে বাবা বিধানসভায় প্রার্থী হচ্ছেন শুনে খেজুরি ফিরেছিলেন সৌরভ।’’

    বিজেপি সূত্রের খবর, পদ্ম প্রার্থী হিসাবে সুব্রতর নাম যখন ঘোষণা করা হয় তখন তিনি নাকি জমিতে কাজ করছিলেন। বিজেপির এক সাংসদের ফোন পেয়ে কোনওরকমে হাত-পায়ের কাদা ধুয়ে গিয়েছিলেন বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে। ভোটপ্রচার করতে গিয়ে পানের বরজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

    খেজুরির নবনির্বাচিত বিধায়ক প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্লক তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য সমুদ্ভব দাশ বলেন," ওঁর আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ এটা ঠিক। এর বেশি আর কিছু জানি না।" মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কামারদায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক সুব্রত পাইক। সেখানেই বলেছেন, ‘‘কোনওদিনই ভাবিনি যে, মোদীজি আমাকে প্রার্থী করবেন। আমার পরিস্থিতি সকলেরই জানা। তবু এখন বিজেপির আদর্শ অটুট রাখার ব্যাপারে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।"
  • Link to this news (আনন্দবাজার)