পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পরেই আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের অন্তত ৩৫টি আসন জেতার লক্ষ্য স্থির করতে চাইছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে চলেছেন। তাঁর আগে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করতে আজ অমিত শাহকে দায়িত্ব দিয়েছে দল। সূত্রের মতে, আগামিকাল কলকাতায় পরিষদীয় দলের নেতা বেছে নেবেন তিনি। যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের কাজে অমিত শাহকে সাহায্য করবেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি। অসমেও টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করছে বিজেপি। ওই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নড্ডা ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিংহ সাইনিকে।
পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও জোট শরিকের মদতে জয়ী হওয়া পুদুচেরিতে সরকার গঠন, শপথগ্রহণের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে দিল্লিতে আজ বিজেপির সদর দফতরে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতা দখল করেছে দল। তাই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছেন মোদী-শাহেরা। দলীয় সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থাকতে চলেছেন। এ ছাড়া, বিজেপির সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং শরিক দলের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে আজকের বৈঠকে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ভাল ফল বিজেপিকে নতুন করে ২০২৯ সালের লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, বিধানসভার প্রবণতা লোকসভাতে ধরে রাখতে পারলে পশ্চিমবঙ্গে দল অন্তত কুড়ি থেকে পঁচিশটি আসন বাড়াতে সক্ষম। কারণ, বিজেপির নেতৃত্বের দাবি, বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস যে ভাবে ধাক্কা খেয়েছে তাতে তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো বেশ মুশকিল। বিশেষ করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়সজনিত কারণে তৃণমূলের স্বমহিমায় ফিরে আসা কতটা সম্ভব— তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে রাজনীতিকদের। তৃণমূল শিবিরে ভাঙনেরও সম্ভাবনা দেখছে বিজেপি। দলের দাবি, এখন বিজেপিতেঅন্য দল থেকে বিশেষ করে তৃণমূল থেকে কর্মী-সমর্থক ও নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করায় নিষেধ রয়েছে। একবার দরজা খুলে দিলে তৃণমূলে ধস নামা অবশ্যম্ভাবী।
ফলে আগামী লোকসভা ভোটে ভাল ফল করার প্রশ্নে উজ্জীবিত বিজেপি নেতৃত্ব। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্তি ১২। আমরা আগামী লোকসভা নির্বাচনে অন্তত ৩৫টি আসন জেতার লক্ষ্য নিয়ে যে মাঠে নামব, তা এখন থেকেই বলা যায়। কারণ, বর্তমানে যে সংখ্যক আসন দল জিতেছে, তা প্রায় ত্রিশটি লোকসভা আসনের কাছাকাছি।’’ বিজেপি চাইছে, পশ্চিমবঙ্গের মতো যে সব রাজ্যে আসন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, সেই রাজ্যগুলি থেকে ভাল ফল করে তিনশো পার করতে। যাতে জোট শরিকদের সাহায্য নিয়ে আগামী লোকসভাতে চারশো আসন পাওয়ার স্বপ্ন ছোঁয়া সম্ভব হয়।