• জনস্বার্থ মামলা এখন রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে: সুপ্রিম কোর্ট
    বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) নিয়ে অভিযোগ ভুরিভুরি। সাধারণ মানুষকে সুরাহা দিতে যে ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, তা এখন নানাবিধ স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। নানা মহল থেকে বহুদিন ধরে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এবার এ জাতীয় জনস্বার্থ মামলা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বাছা বাছা শব্দে কটাক্ষ করেছে ৯ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতের মতে, ‘পিআইএল এখন প্রাইভেট ইন্টারেস্ট লিটিগেশন, পাবলিসিটি ইন্টারেস্ট লিটিগেশন, পয়সা ইন্টারেস্ট লিটিগেশন এবং পলিটিক্যাল ইন্টারেস্ট লিটিগেশনে পরিণত হয়েছে।’ 

    মঙ্গলবার দু’দশকের পুরানো কেরলের শবরীমালা মামলা নিয়ে শুনানিতে এই মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছরের মহিলাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ধর্মীয় স্থানে মহিলাদের এহেন বৈষম্য দূর করতে ২০০৬ সালে মামলা করেছিল ইন্ডিয়ান ইয়ং লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন। এদিন আবেদনকারী সংগঠনের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী রবিপ্রকাশ গুপ্তা। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের জুনে সংবাদপত্রে প্রকাশিত চারটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে। 

    এব্যাপারে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন কীভাবে জনস্বার্থ মামলার কারণ হতে পারে? মামলা করার জন্য তো প্রতিবেদন প্রকাশ করাই যায়।’ বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি নাগরত্না বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে আমরা সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টে পিআইএল মামলা গ্রহণ করছি।’ তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি প্রতিদিন হাজার হাজার চিঠি পান। তাঁর প্রশ্ন, ‘সব চিঠির ভিত্তিতে তিনি কি পিআইএল করবেন?’ 

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সাংবিধানিক বেঞ্চে ৪-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে। সুপ্রিম কোর্টের যুক্তি ছিল, শতাব্দীর পর শতাব্দীব্যাপী এহেন নিষেধাজ্ঞা বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। এই রায়ের পরে নানা মহল থেকে প্রতিবাদ করা হয়। ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সমানাধিকার, অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় আচার এবং আদালত কতটা ধর্মীয় আচার বা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে, সেই প্রশ্নগুলি উঠতে শুরু করে। এরপরই শবরীমালা রায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট  এই প্রশ্নগুলির মীমাংসার জন্য ২০১৯ সালে বৃহত্তর ৯ সদস্যের বেঞ্চ গঠন করা হয়। 
  • Link to this news (বর্তমান)