• কেন অভিনয় করতে যাব! এখন কি অভিনয় করার সময় আমার? অভিনয় করে কত পান পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতারা? : রূপা গঙ্গোপাধ্যায়
    আনন্দবাজার | ০৬ মে ২০২৬
  • আরাম করার সুযোগ নেই। সোনারপুর দক্ষিণের মানুষেরা কী ভাবে বেঁচে আছেন, সেটা চোখে দেখা যায় না। সহ্য করা যায় না। আমার এলাকার অলিগলিতে ঢুকে মনে হয়েছে, সমস্ত রাজ্যবাসী এবং শহরবাসীকে একবার এখানে পৌঁছে দিই। অটো, টোটো তো ঢোকে না রাস্তাগুলোয়। বাইকে চাপিয়েও যদি দেখাতে পারি। নিজের চোখে সবাই এলাকার প্রকৃত অবস্থা দেখতে পাবেন। বুঝতে পারবেন, কেন আরাম করার সুযোগ নেই! নির্বাচন জিততে আমায় যত না খাটতে হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি খাটতে হবে আগামী দিনে। এখানকার মানুষগুলোকে বাঁচাতে। সুস্থ জীবন দিতে।

    কী করে ময়লা পরিষ্কার হবে, কী করে ড্রেন পরিষ্কার হবে, তা-ই নিয়ে ইতিমধ্যেই পুরসভার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছি। মানুষের দুর্দশা আর ওয়ার্ডের ড্রেনেজ সিস্টেমের দুর্দশার মধ্যে খুব ফারাক খুঁজে পাচ্ছি না। তালিকাও তৈরি করছি, আমায় কী কী করতে হবে। হয়তো আজ বা আগামিকালের মধ্যেই ওই তালিকা নিয়ে বসব। আমার তাই আরাম-বিশ্রামের সময় নেই। আরাম-বিশ্রাম করতে চাইও না। গত রাতে কেবল দু’চোখের পাতা এক করেছি। কারণ, গত চার দিন টানা জেগে। ঘুমোইনি আমরা কেউই। সাধারণ মানুষ ভাবেন, নির্বাচন হয়ে গেলে বুঝি প্রার্থী আরামে নিদ্রা যান। তাঁদের জানাই, এটা তো বিজেপি দল। প্রার্থী তাই আরামে ঘুমোতে পারেন না। প্রার্থী, এজেন্ট শেষ দিন পর্যন্ত খাটেন। আমার সঙ্গে তাই কম করে ১৫০ জন গত চার রাত ধরে ঘুমোননি। আজ আমরা একটু বেলা করে উঠেছি, এই মাত্র।

    বেশি আরাম বা আয়েশের ইচ্ছা আরও একটি কারণে নেই। সোনারপুর দক্ষিণকে উন্নত করার রোড ম্যাপ আমার তৈরি। আমার চিত্রগ্রাহকেরা আমার ছবি তোলার জন্য ঘোরেননি। তাঁরা এলাকার দুর্দশার ছবি তোলার জন্য ঘুরেছেন।

    এ বার প্রশ্ন, তা হলে কি নতুন করে যুদ্ধে নামছি? সে ক্ষেত্রে আমার জবাব, একদম তা-ই। এটা মানুষের বাঁচার যুদ্ধ। এখানে কোনও শখ-শৌখিনতা নেই। এখানে ১০০ কোটি, ২০০ কোটি, ৫০০ কোটি বানানো নেই। এখানে লোকের জল, সবজি, বাজারব্যবস্থা, খাওয়াদাওয়া, ড্রেনেজ সিস্টেম, পরিচ্ছন্নতার মতো কাজগুলো রইল। তাই প্রচারের সময় এলাকাবাসী আমায় যে ভাবে দেখেছেন, তার চেয়েও বেশি দেখবেন আগামী দিনে। হয়তো গলায় মালা পরে, বেলুন লাগিয়ে অটোতে ঘুরতে দেখবেন না। তাঁদের কাজের জন্য, তাঁদের ভালর জন্য পথে নামব। তাঁরা আমায় দেখতে পাবেন। এই যুদ্ধের জন্য আমি প্রস্তুত।

    আনন্দবাজার এই প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছিল, এলাকার পাশাপাশি টলিউডও তো আমার থেকে আশা করবে। তার কী হবে?

    এ ব্যাপারে আমার মত, আপাতত দল আমায় যেটুকু দায়িত্ব দিয়েছে, সেটুকুই পালন করব। পার্টি যদি আলাদা করে টলিউডের ভালমন্দ দেখার দায়িত্ব দেয়, তখন দেখব। এটা তো আমার কাজ নয়। আর কখনওই আমি অন্যের বিষয়ে নাক গলাব না। তবে ব্যক্তিগত ভাবে টলিউড নিয়ে কোনও স্বপ্ন দেখি না। কারণ, আমি একটি দলের কর্মী। সোনারপুর দক্ষিণের মানুষের উন্নতিসাধনের দায়িত্ব দল আমায় দিয়েছে। পার্টি অন্য কাজ দিলে সেটাও তখন করতে হবে। ডাবল খাটনি হবে হয়তো, কিন্তু করব। এ বার প্রশ্ন, তা হলে কি আর অভিনয় করতে পারব? এ বিষয়ে আমার জিজ্ঞাসা, কেন অভিনয় করব? এখন কি অভিনয় করার সময় আমার? অভিনয় করে ক’টা টাকা পান এখানকার অভিনেতারা?

    আরও একটা আশ্বাস দিই। নিশ্চিন্তে থাকুন, মাছেভাতে বাঙালি থাকবে। তার সঙ্গে মাংসও থাকবে, পাঁঠার মাংস। আমি রবিবার পাঁঠার মাংস খাবই খাব। আর মঙ্গল এবং শনিবার ছাড়া, মাছভাতও খাব। দেখি, আমার মাছভাত কে বন্ধ করে! এগুলো এত দিনের অপপ্রচার।

    আজ মাকে বড্ড মনে পড়ছে। মা থাকলে এই বিশেষ দিনে রেঁধে দিতেন উচ্ছেসেদ্ধ, পেঁপেসেদ্ধ, আলুসেদ্ধ, ডিমসেদ্ধ, কাঁচালঙ্কা, সর্ষের তেল, মোটা দানার চালের গলা ভাত। আমি বাসমতী চাল খাই না। আজ শুধু খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ। বদলে ডালসেদ্ধ থাকবে। বাবা থাকলে আশীর্বাদ করে বলতেন, “এই এলাকাতেই একটা সময় লাল সাইকেল চড়ে ঘুরতিস। আগামী দিনে সকলের যেন মঙ্গল করতে পারিস।” মা থাকলে বলতেন, “কার পাম্পের সমস্যা, কাল জলের সমস্যা— এগুলো একটু দেখিস মনা। যদি জমি ছাড়তে হয়, ছেড়ে দিস।”

    আমি ত্যাগ করতেই জন্মেছি। দক্ষিণেশ্বরে দেবী কালীর কাছে মানত করা মেয়ে। জীবনে তাই ত্যাগেই আনন্দ। মৃত্যুও হবে ত্যাগের মধ্যে দিয়েই। আমি জিতে ফেরায় এলাকাবাসী খুব খুশি। সকলের আগে আমি যে, এলাকার মেয়ে। হ্যাঁ, দাড়িতে মেহন্দি লাগানো পরিচিত মুসলিম ব্যক্তিও। মানুষকে মানুষ হিসাবে ভাবতে হবে। আমি সেটাই করি। এই জন্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির এত প্রিয় আমি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)