শান্তিপুর: তাঁতশিল্পকে বাঁচানো ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নে জোর দিতে চান নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, রানাঘাট: নদীয়ার শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে পদ্মপ্রার্থী। জয়ের পরেই জগৎ বিখ্যাত শান্তিপুরের তাঁতশিল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও এলাকার রাস্তাঘাটের ওপর জোর দিতে চান শান্তিপুরের বিজেপির জয়ী প্রার্থী শিক্ষক স্বপন দাস। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নদীয়ার শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাস। পেশায় শিক্ষক স্বপনবাবুর এই জয়ে খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। জয়ের শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পর থেকেই তাঁর ব্যস্ততা তুঙ্গে। তবে উৎসবের আবহেও নিজের এলাকার সমস্যার কথা ভুলে যাননি বিধানসভা ভোটে জয়ী এই বিজেপি প্রার্থী।
এদিন তিনি জানান, আমি যখন প্রচারে বেরিয়েছি, মানুষের কাছে প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি। আমি এতটাই ঋণী যে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভাবি, কী করে তাঁদের এই ঋণ শোধ করব? মানুষের এই ঋণ তো কোনোদিনই শোধ হবার নয়। তাও এই ঋণ শোধ করার প্রথম রাস্তা হচ্ছে, মানুষকে সুশিক্ষার সুযোগ দেওয়া। স্কুল কলেজগুলি যে অবস্থায় রয়েছে সেগুলির দিকে নজর দেওয়া। স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে হাসপাতালগুলিতেও উন্নয়নের ব্যবস্থা করা। শান্তিপুরে প্রচুর মানুষ কর্মহীন। যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায়৭০% এর বেশি মানুষ শান্তিপুরের জগৎ বিখ্যাত এই তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলি কাজ পায় না। তাই শ্রমিকের কাজ করতে বাইরে চলে যাচ্ছে। যে কোনো প্রকারে এই শিল্পটাকে বাঁচানোই আমার লক্ষ্য।
স্বপনবাবু বলেন, এতদিন রানাঘাটের সাংসদকে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে দেননি প্রাক্তন তৃণমূলের বিধায়ক ও পুরসভার চেয়ারম্যান। আমি নিজে চেয়ারম্যানকে উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু, উনি কোনো কথায় কান করেননি। এবার আমরা সরাসরি কাজ করতে পারব। এই কাজগুলি যদি করতে পারি, তবে আগামী দিনের শান্তিপুরের উন্নয়ন এক অন্য মাত্রা পাবে।
ভোট গণনার পরের দিন সকালেই তাঁকে দেখা যায় এক ভিন্ন মেজাজে। সকাল সকাল দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন বিজেপির কর্মী সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। নেতাকে কাছে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা কর্মীরা। ফুলের তোড়া ও মালা দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। হাসিমুখে তিনি সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। একের পর এক কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ তাঁর সঙ্গে সেলফি তোলার আবদার জানান। তিনি সানন্দে সকলের আবদার মেটান।
স্বপনবাবু একজন শিক্ষক ও ক্রিকেটার। এদিন তাঁর স্কুলের সহকর্মী ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে হাজির হয়েছিলেন তাঁর পুরনো বাড়িতে। সহকর্মী বিধায়ক হওয়ায় তাঁরা গর্বিত।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, একজন শিক্ষক হিসাবে স্বপন দাসের এই জয়, এলাকার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা নেবে। তবে এখন দেখার, বিধানসভার অধিবেশনে শান্তিপুরের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি তুলে ধরে দাবি আদায় করে আনতে পারেন কি না!