• অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে তো, চিন্তায় বাহা-লক্ষ্মীরা
    বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মঙ্গলবার দুপুরে কাঠ কাটতে বেরিয়েছিলেন সিউড়ির নগরী পঞ্চায়েতের কমারডাঙা গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মী হাঁসদা। তাঁর মনে এখন একটাই চিন্তা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে তো? তৃণমূলকে সরিয়ে এবার রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি।সেই খবর পাওয়ার পর থেকেই ভাতা পাওয়া নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হয়েছে লক্ষ্মীর। শুধু লক্ষ্মী হাঁসদার নয়, তাঁর মতো বহু মহিলার কাছেই এই টাকা ছিল সংসার চালানোর অন্যতম সম্বল। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের কাছে এই আর্থিক সহায়তা ছিল সামাজিক ও মানসিক নিরাপত্তার প্রতীক।

    রাজনগরের তাঁতিপাড়া পঞ্চায়েতের বাহা মারান্ডির জীবনচিত্র এর চেয়ে আলাদা কিছু নয়। রুক্ষ্ম এই এলাকায় চাষবাসের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বর্ষার সময় ধান রোয়া বা কাটার কয়েকটা দিন বাদ দিলে বিশেষ কাজ জোটে না। স্বামী মারা যাওয়ার পর বাহার কাছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারই হয়ে উঠেছিল জীবনযুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার। একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে তিনি বলছিলেন, আগে পাড়ার মুদির দোকানে ধারে কিছু দিতে চাইত না। দোকানদার ভাবত, টাকা মেটাতে পারব না। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা যেদিন থেকে ঢুকছে সেদিন থেকে দোকানদার আর মুখ ফিরিয়ে নেয় না। কারণ তিনি জানেন, মাসের শেষে টাকা ঢুকলে ঠিকই শোধ করে দেব। লক্ষ্মী কিংবা বাহাদের মতো অসংখ্য প্রান্তিক মহিলার কাছে এই প্রকল্প হয়ে উঠেছিল আত্মসম্মানের প্রতীক।

    একুশের নির্বাচনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে এই টাকা পেয়ে এসেছেন বাংলার মহিলারা। কিন্তু রাজ্যে পালা বদল হতেই এক অদ্ভুত ভয় ও আতঙ্ক গ্রাস করেছে তাঁদের। আশঙ্কা শুধু একটি প্রকল্প নিয়ে নয়। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবসাথীর মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন বিশবাঁও জলে। বিজেপি নেতৃত্ব বরাবরই এই প্রকল্পগুলোকে খয়রাতির রাজনীতি বলে দেগে এসেছে এবং বারংবার এগুলো বন্ধের পক্ষে সওয়াল করেছেন। সাধারণ মানুষের ভয় ঠিক সেখানেই। 

    যদিও বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি দীপক দাস বলেন, নির্বাচনের আগেই আমরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সরকার গঠনের পর মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

    তবে এই প্রতিশ্রুতিতে বিশেষ ভরসা পাচ্ছেন না প্রান্তিক মহিলারা। নির্বাচনি প্রচারে তৃণমূলের বলা কথাগুলি এখন তাঁদের মনে নতুন করে ভেসে উঠছে। বিহারে টাকা ফেরত চাওয়ার প্রসঙ্গ কিংবা দিল্লিতে সরকার গঠনের ১৫ মাস পরেও আড়াই হাজার টাকা না দেওয়ার বিষয়গুলি তাঁদের ভাবাচ্ছে। সিউড়ির গৃহবধূ চন্দ্রিমা দাস, দীপিকা বিশ্বাসের কথায়, এই টাকা দেওয়ার জন্য যদি শর্ত আরোপ করা হয়? যদি বলা হয়, পাকা বাড়ি বা মোটরসাইকেল থাকলে টাকা মিলবে না। তখন কী হবে? তৃণমূলের শহর সহ সভাপতি রমারঞ্জন চট্টোপাধ্যায় বলেন, মানুষ বিজেপিকে এনে কী ভুল করল, তা আগামী দিনে বুঝতে পারবে।
  • Link to this news (বর্তমান)