নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নিজের হারেও দুঃখ নেই। কিন্তু, তৃণমূলের পরাজয়ে বেশ আনন্দিত অধীর চৌধুরী। বিরোধীরা বলছে, এ যেন নিজের নাক কেটে, অপরের যাত্রা ভঙ্গ করার চেষ্টা। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বহরমপুরের পরাজিত কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী বলেন, বাংলাজুড়ে গেরুয়া সাইক্লোন বইছে। বাংলার ভবিষ্যৎ কী হবে জানি না? বাংলার রাজনীতিতে এই ধরনের মেরুকরণ ছিল না, যেটা আমদানি হয়েছে মমতা এবং মোদির হাত ধরে। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বিপদ বেড়েছে। তাই আমিও হেরেছি। আমার হারার পিছনে কারণ একটাই, এই হিন্দুত্ব এবং গেরুয়া ঝড়।
এবার মানুষ কিছু দেখেনি, হিন্দুরা দেখেছে সব পরে হবে, আগে তৃণমূলকে তাড়াও। সেই জায়গাটা বিজেপি পার্টি হিন্দুদের বোঝাতে পেরেছে। সেজন্য মানুষ তাদের ভোট দিয়েছে। সবাই ভেবেছে মমতাকে তাড়াতে হবে। না হলে এই বাংলা পশ্চিম বাংলাদেশ হয়ে যাবে। এই বাংলায় জনসংখ্যা ভারসাম্য হারিয়ে যাবে। এমন একটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছিল। যার কারণে হিন্দুরা বাংলায় অনেক বেশি সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। যেটা আমরা আগে দেখিনি। আমি খুব আনন্দিত যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব আনন্দিত। জানি না আগামী দিনে যাদের হাতে বাংলা থাকবে, তারা কীভাবে চালাবে? কিন্তু, যে ছিল এতদিন, তারা বাংলায় থাকলে আর দেখতে হত না। এদিকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খোলেন রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘তৃণমূলের পরাজয়ে কংগ্রেসের অন্দরে কিছু মানুষ উল্লাস করছেন। তাঁদের বুঝতে হবে যে বিজেপি-র হাতে ভারতে গণতন্ত্র ধ্বংস হওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ অসম এবং বাংলার এই ফলাফল। ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ সরিয়ে রাখুন। এটা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের ব্যাপার নয়। দেশের ব্যাপার।
এদিন অধীরবাবু আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলায় তৃণমূল খাতা খুলতে পারেনি। আমি লোকসভা নির্বাচনে হেরেছিলাম। সেই অবস্থাতেই আমি আবার লড়তে এসেছিলাম। পার্টির কথা শুনে সিনিয়র লিডার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। আমি হেরেছি, কিন্তু তার জন্য কোনো অভিযোগ করছি না। হিন্দুত্বের সাইক্লোন বয়েছে। অধীর চৌধুরীও হিন্দু, কিন্তু সেই হিন্দু না, যেটাকে বিজেপি আসল হিন্দু বলে মনে করে।
তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা অশোক দাসের দাবি, শেষ লড়াইয়ে ব্যর্থ অধীর চৌধুরী। তাই হতাশায় এসব বলছেন। উল্লেখ্য, বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পরাস্ত হয়েছেন অধীরবাবু। এখানে জিতেছেন বিজেপির সুব্রত মৈত্র ওরফে কাঞ্চন। দু’বছর আগে লোকসভা ভোটে অন্য ছ’টি বিধানসভা আসনে পিছিয়ে থাকলেও এক মাত্র বহরমপুর বিধানসভায় ‘লিড’ ছিল অধীরবাবু। এবার তাঁর সেই দুর্গও ভেঙে পড়ল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বহরমপুরে কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী তৃতীয় হয়েছিলেন। এ বার একধাপ এগিয়ে অধীরবাবুর স্থান দ্বিতীয়। তিনি বিধানসভা নির্বাচন লড়তে এসে খড়কুটো ধরে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। সেটাও ব্যর্থ হল। তবে মুর্শিদাবাদের রানিনগর ও ফরাক্কা আসনে কংগ্রেসের জয় কিছুটা হলেও আশা বাড়িয়েছে হাত শিবিরকে।