কর্মসংস্থানের আশায় বুক বাঁধছে যুবসমাজ, নতুন বিজেপি সরকারের দিকে তাকিয়ে তরুণ প্রজন্ম
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকারের সূচনায় এক অন্যরকম আশার সঞ্চার হয়েছে যুবসমাজের মনে। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলা হাজার, হাজার তরুণ, তরুণীরা যেন নতুন আলোর সন্ধান পাচ্ছেন। বিজেপি সরকারের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর চোখে এখন ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্ন। তাঁদের প্রত্যাশা, এই পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক নয়, বাস্তব জীবনে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কৃষ্ণনগর উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘুরে দেখা গেল শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে এক নতুন ধরনের উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের কথায়, তৃণমূল সরকার আমাদের অনেক বছর সময় নষ্ট করেছে। আমরা সেই সরকার পরিবর্তন করে দিতে পেরেছি। এবার বিজেপি সরকার গঠন করার পর আমাদের কাজের বিষয়টা নিয়েই অগ্রাধিকার দিক। তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে।
উচ্চশিক্ষিত যুবকদের মধ্যে কর্মসংস্থানের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেকেই বাধ্য হয়ে রাজ্যের বাইরে পাড়ি দিয়েছেন কাজের খোঁজে। ভোটের জন্য এখানে এসেছিলেন ভোট দিতে, ফল বেরিয়ে যেতেই তারা আবার পাড়ি দেবেন ভিন রাজ্যে। নতুন সরকারের কাছে তাদের দাবি, রাজ্যের মধ্যেই পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হোক, যাতে রাজ্যের প্রতিভা ও দক্ষতা রাজ্যের উন্নয়নের কাজেই লাগে।
কৃষ্ণনগরের এক স্নাতকোত্তর শেষ করা তরুণ গৌরাঙ্গ মণ্ডল বলেন, আমাদের মতো যুবকদের জন্য সরকারকে কর্মসংস্থানে জোর দিতে হবে। আগের সরকার মানুষের পরিষেবা নিয়ে সবকিছু করলেও চাকরি নিয়ে খুব ছিনিমিনি খেলেছে। সব ক্ষেত্রেই একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমরা ভোট দিয়েছি। আমরা বিশ্বাস রাখি বিজেপি সরকার আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। কৃষ্ণনগরের এক কলেজ পড়ুয়া তরুণী স্নিগ্ধা দে বলেন,পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে যাতে রাজ্যেই একটা ভালো চাকরি পাই, সেই প্রত্যাশা করছি। সরকার যদি নতুন শিল্প আনে, তাহলে কর্মসংস্থান বাড়বে। কৃষ্ণনগরের বিজেপির যুব মোর্চার সদস্য রেবন্ত রায় বলেন, আমরা কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি, অবশ্যই তা রক্ষা করার চেষ্টা করব। সরকার গড়ার পর শিল্প গড়ে তোলা হবে ও সরকারি চাকরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান হবে।