হাওড়া গ্রামীণের তিন আসনে আস্থা পদ্মফুলে, হিরণ জিতলেন ২২ হাজারে
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে গেরুয়া ঝড়। বাদ গেল না হাওড়া গ্রামীণ জেলা। এই জেলার সাতটি আসনের মধ্যে তিনটি তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিল বিজেপি। উলুবেড়িয়া উত্তর, আমতা এবং শ্যামপুর বিধানসভার মানুষ এবার পদ্মফুলে আস্থা রেখেছেন।
জেলায় যে তিনটি বিধানসভা বিজেপি দখল নিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম শ্যামপুর। গত ২৫ বছর টানা এই কেন্দ্র তৃণমূলের দখলে থাকলেও এবার এটি হাতছাড়া হয়েছে। এই কেন্দ্রে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয় দলই নতুন মুখকে প্রার্থী করেছিল। তৃণমূল কালীপদ মণ্ডলের জায়গায় টিকিট দিয়েছিল নদেবাসী জানাকে। অন্যদিকে বিজেপি তনুশ্রী চক্রবর্তীর পরিবর্তে হিরন্ময় (হিরণ) চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে। হিরণ তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসীকে ২২ হাজার ২৬০ ভোটে পরাজিত করেছেন। হিরণের প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৫১, অন্যদিকে, নদেবাসী পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৩৯১টি ভোট। গত বিধানসভা ভোটেও হিরণ বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন খড়্গপুর থেকে। আমতা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সুকান্ত পাল হেরেছেন বিজেপি প্রার্থী অমিত সামন্তর কাছে। জয়ের ব্যবধান ৪ হাজার ৪৫৪। অমিত পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪ হাজার ৬৪৯ ভোট, অন্যদিকে সুকান্ত পালের ঝুলিতে জুটেছে ১ লক্ষ ১৯৫টি ভোট। উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রে বিজেপি চিরণ বেরাকে ফের প্রার্থী করলেও তৃণমূল গতবারের বিধায়ক নির্মল মাজিকে টিকিট না দিয়ে তাঁর পরিবর্তে বিমল দাসকে প্রার্থী করেছিল। চিরণ জিতেছেন ৪ হাজার ১৭৭ ভোটে। তিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৩২০টি ভোট, অন্যদিকে বিমল দাস পেয়েছেন ৮৯ হাজার ১৪৩টি ভোট।
এই তিনটি আসনে জয় সম্পর্কে বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলার সভাপতি দেবাশিস সামন্ত বলেন, খুব ভালো লাগছে। আমরা এই প্রথম এরাজ্যে সরকার গঠন করছি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা দলের নেতা-কর্মীদের প্রচেষ্টায় সার্থক হল। উচ্ছ্বাস, আনন্দ সবই হবে, কিন্তু দলের কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এই জয়ের ফলে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।