ভোট পরবর্তী হিংসা-ভাঙচুর অব্যাহত, আতঙ্ক! থমথমে অলিগলি
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের সর্বত্রই বিক্ষিপ্তভাবে ভোট পরবর্তী হিংসা চলছে। তার রেশ পড়েছে মহানগর কলকাতাতেও। শহরের রাস্তাঘাট মঙ্গলবার ছিল ফাঁকা। অশান্তি হতে পারে এই আশঙ্কায় বহু মানুষ বাড়ি থেকে বেরননি। অফিস-স্কুল ইত্যাদি জায়গায় উপস্থিতির হার ছিল কম। লম্বা ছুটির পর সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস ছিল মঙ্গলবার। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাস্তায় গণ পরিবহণের সংখ্যা বেশি ছিল না। অ্যাপ ক্যাবের সংখ্যা ছিল কম। অশান্তির আশঙ্কায় শহরের অলিগলি থমথম করেছে দিনভর।
বিজেপি জেতার সেলিব্রেশন করেছে জায়গায় জায়গায়। তবে কলকাতার ১১টির মধ্যে ৫টি আসনে জিতলেও মনমরা জোড়াফুল শিবির। রাস্তায় সেভাবে দেখা যায়নি তৃণমূলের কর্মীদের। এর পাশাপাশি ভোট পরবর্তী হিংসার কবলে পড়েছে তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিস ও নির্বাচনি কার্যালয়। বেলেঘাটা, এন্টালি, কসবায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। অশান্তির ছবি দেখার পর আশঙ্কায় পথে বেরয়নি সাধারণ মানুষ। শহরের মুড বুঝে রাস্তায় পা ফেলেননি অনেকে। সবমিলিয়ে জমজমাট শহর ভোটের পরের দিন থেকেছে থমথমে অবস্থায়।
দলের পরাজয়ের পর সোমবার বিকেল থেকেই তৃণমূলের পার্টি অফিসগুলি ফাঁকা হতে থাকে। কোথাও তা দখল নেন বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। গড়িয়াহাট মোড়ে তৃণমূলের অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দমকল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সেই ঘটনার রেশ থাকে মঙ্গলবারও। গড়িয়াহাট মোড়ের অধিকাংশ ছোট স্টল এদিন ছিল বন্ধ। মার্কেটের ভিতরেও বহু দোকান বন্ধ ছিল। অনেক ব্যবসায়ী আবির খেলায় যোগ দেন এদিন। পাশাপাশি বালিগঞ্জ ফাঁড়ি, পার্ক সার্কাস মোড়ে লোকসংখ্যা ছিল কম। রাস্তা প্রায় শুনসান। চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনেও অন্যান্য দিনের তুলনায় ব্যস্ততা কম। পাশেই নামী বেসরকারি স্কুল থাকায় প্রতি দুপুরে যানজট ভয়াবহ আকার নেয়। কিন্তু এদিন যানজট ছিল না। পার্ক সার্কাস ট্রাফিক গার্ডের এক আধিকারিক বলেন, ‘আজ স্কুলের গাড়ি কম এসেছে। ভোট-এফেক্ট।’ ট্যাংরার ডি সি দে রোড, জি জে খান রোড তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এদিন এখানেও ভিন্ন ছবি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দেখা মেলেনি। এখানে রাস্তার দু’ধারে কিছু দূর অন্তর তৃণমূলের পার্টি অফিস। সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। একটি চেয়ারও অক্ষত নেই। সব ভাঙা। তৃণমূলের পতাকার জায়গায় উড়ছে বিজেপির পতাকা। ট্যাংরার একাধিক বাসিন্দার বক্তব্য, ‘রাতভর ভাঙচুর চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। আতঙ্ক বিরাজ করছে সর্বত্র।’ ভয়ে কার্যত সিঁটিয়ে তিলজলা, তপসিয়া, ট্যাংরা, পামারবাজারের অধিকাংশ বাসিন্দা।
অন্যদিকে বেহালার দু’টি আসনই বিজেপির দখলে চলে যাওয়ায় আচমকা বদলে গিয়েছে চেনা ছবি। রাস্তায় ছেয়ে গিয়েছে বিজেপি পতাকা। অটোতে তৃণমূলের বদলে বিজেপির প্রতীক। তৃণমূলের পার্টি অফিস অক্ষত অবস্থায় নেই। বেহালা মাঝিপাড়ায় ১২৪ নম্বর ওয়ার্ডের পার্টি অফিস অন্ধকার। রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে চেয়ার, টেবিল, ভাঙা পাখা। কার্যত গা ঢাকা দিয়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। ভোট পরবর্তী হিংসার আতঙ্কে এদিন জেমস লং সরণিতে বাজার বসেনি। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার অপেক্ষায় কলকাতা।