বেলেঘাটায় তৃণমূলের বুথ এজেন্টকে মারধর, হাসপাতালে মৃত্যু
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মৃত্যুহীন নির্বাচন হয়েও শেষরক্ষা হল না। ছাব্বিশের রায়দান মিটতেই ভোট পরবর্তী হিংসার ‘শিকার’ হলেন তৃণমূলের এক কর্মী। নাম বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক (৩৮)। বেলেঘাটা বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ এজেন্ট হিসাবে কাজ করেছিলেন তিনি। সোমবার ফল প্রকাশের পর তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় বিজেপি। অভিযোগ, বাড়ির বাইরে ডেকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বাড়ির সামনে থেকে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোররাতে সেখানেই মৃত্যু হয় ওই তৃণমূল কর্মীর। তৃণমূলের বুথ এজেন্টের মৃত্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করেছে বেলেঘাটা থানার পুলিশ।
রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের দাপটে পালটে গিয়েছে কলকাতার রং। ১১টি আসনের মধ্যে ৬টি বিজেপির দখলে। বেলেঘাটা আসনে জিতে মান বাঁচিয়েছেন কুণাল ঘোষ। সেই কেন্দ্রের অন্তর্গত নারকেলডাঙার একটি বুথে তৃণমূল এজেন্ট হিসাবে বসেছিলেন বিশ্বজিৎ। ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের পর বাড়ি থেকে বের হননি তিনি। সোমবার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনও সকাল থেকে বাড়িতে বসেছিলেন বিশ্বজিৎ। পরিবার সূত্রে খবর, দুপুরে একটি ফোন আসে তাঁর কাছে। এরপরে বেলেঘাটার কবি সুকান্ত সরণির বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বিশ্বজিতের বোন বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে একাধিকবার দাদাকে ফোন করেছি। কিন্তু, ওর ফোন বন্ধ ছিল। দাদার বন্ধুদের থেকেও কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না।’
এলাকাবাসীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে বিশ্বজিৎকে তাড়া করে বিজেপি। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে মারধর করা হয় যুবককে। আতঙ্কিত অবস্থায় রক্তাক্ত হয়ে বাড়ি দিকে ছুটে আসেন তিনি। দৌড়ে বাড়িতে ঢুকে যান। সেই সময় বাড়ির সামনে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। আতঙ্ক ছড়ায় কবি সুকান্ত সরণিতে। মৃতের কাকা বলেন, ‘দুষ্কৃতীরা হামলা চালানোর পর এলাকা ছেড়ে চলে যায়। রাস্তায় বেরিয়ে দেখি, বাড়ির পাশে গলির মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিশ্বজিৎ। আমরা সবাই খুব ভালো করে জানি ও সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। কিন্তু, ফলাফল বিপক্ষে গিয়েছে এভাবে মারধর করবে বিজেপি?’ পরিবারের সদস্যরা বিশ্বজিৎকে উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে এন আর এস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। যুবকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অব কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ভোররাতে মৃত্যু হয় তাঁর। বেলেঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
লালবাজার সূত্রে খবর, দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তার জেরেই মৃত্যু। তাহলে বিজেপির তাড়া খেয়ে বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন তৃণমূলের বুথ এজেন্ট? কিন্তু, এই মৃত্যুর নেপথ্যে রাজনৈতিক হিংসার গন্ধ পাচ্ছে পরিবারের সদস্য ও তৃণমূল।