সংবাদদাতা, বনগাঁ: ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের পর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপির জয়ের ধারা অব্যাহত বনগাঁয়। বনগাঁ লোকসভার সাতটি বিধানসভা আসনের ৬টিতেই বিজেপি জয় হাসিল করেছে। বনগাঁ মহকুমার চার আসনেই জয় পেয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, ২০২১-এর তুলনায় এখানে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধানও বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে কমেছে বামেদের ভোট। মহকুমার চার আসনেই বামেদের ভোট প্রায় অর্ধেক কমেছে। তাই ফলাফল ঘোষণার পর চর্চা চলছে, এই তথাকথিত বাম ভোটে ভর করেই কি রামের জয় জয়াকার বনগাঁয়? রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা।
২০২৪ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে বাগদায় ৮ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়েছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী গৌর বিশ্বাস। এবারও তাঁকেই প্রার্থী করেছিল দল। তবে এবার তাঁর প্রাপ্ত ভোট মাত্র ৪ হাজার ৭০০। ভোট বেড়েছে বিজেপির। বাগদা কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুরের প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩০৭। বনগাঁ উত্তর বিধানসভা আসনে ২০২১ নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী পীযূষ সাহা পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ৫১টি ভোট। এবারে সিপিএম প্রার্থীর ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৫৪। একইভাবে ভোট কমেছে বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার বামফ্রন্ট প্রার্থী তাপস বিশ্বাস ১০ হাজার ৬৯ ভোট পেয়েছিলেন। এবারে ওই কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী আশিস সরকার ৬ হাজার ১৯৭টি ভোট পেয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বামেদের ভোট নিজেদের দিকে টানতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল। তা সরাসরি বিজেপির বাক্সে গিয়ে পড়েছে। বাগদার ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী গৌর বিশ্বাস বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলেন। তৃণমূলকে হারাতে পারবে, এমন দল হিসাবে বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। আমাদের ভোটব্যাংকে এর প্রভাব পড়েছে।’
অন্যদিকে, বাগদায় নির্বাচনে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি নির্দল প্রার্থী দুলাল বর। প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ফুলকপি চিহ্নে নির্দল হিসাবে লড়েছিলেন বিজেপি নেতা। অনেকে মনে করেছিলেন, দুলালবাবু বিজেপির জয়ের পথে কাঁটা হবেন। ভালো সংখ্যায় ভোট কাটবেন বিজেপির। কিন্তু ফলাফল সামনে আসতেই দেখা যায়, সেরকম কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেননি তিনি। মাত্র ৪৫১টি ভোট পেয়ে জামানত জব্দ হয়েছে তাঁর। মঙ্গলবার দিনভর বিধানসভা ভোটের ফলাফল নিয়ে চর্চাই শোনা গিয়েছে চায়ের দোকানে, পাড়ার মোড়ে, বাসে, ট্রেনে। সেসব জটলায় ঘুরেফিরে আলোচনায় এসেছে বিজেপির ভোট বৃদ্ধির সম্ভাব্য নানা কারণ নিয়ে কাটাছেঁড়া। সূত্রের খবর, রাজনৈতিক দলগুলিও ইতিমধ্যে ফলাফল বিশ্লেষণ শুরু করেছে।