নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের ফল ঘোষণার পর কলকাতায় চলল বুলডোজার। মঙ্গলবার কোথাও বিজয় মিছিলে বুলডোজার নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। কোথাও ফুটপাতের দখলদারি সরাতে বুলডোজার চলে। তবে কলকাতা শুধু নয় শহরতলিতেও বিজেপির বুলডোজার রাজনীতি চোখে পড়েছে। সাগরদ্বীপেও বুলডোজার নিয়ে হয় বিজয় মিছিল।
এদিন কলকাতার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা বিজয় মিছিল বের করেন। শ্যামপুকুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর বাড়ি পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটে। তাঁর বাড়ি সংলগ্ন বিনানি ভবনের সামনে থেকে বিজয় মিছিল শুরু হয়। পূর্ণিমাদেবীর সে মিছিলে দেখা গিয়েছে বুলডোজার। শোভাযাত্রার সামনে ও পিছনে দু’টি বুলডোজার ছিল। সে দু’টির উপরে উঠে বিজেপি কর্মীরা উচ্ছ্বাস দেখান। শ্যামপুকুরের নয়া বিধায়ককে ফুল, মালা, মিষ্টিতে বরণ করেন এলাকার বাসিন্দারা। মালাপাড়া হয়ে একাধিক রাস্তা ঘোরে বিজয় মিছিল। বাড়ি থেকে বেরিয়ে খানিক দূর হেঁটে আসেন পূর্ণিমাদেবী। তখন রাস্তায় জনস্রোত। তারপর হুডখোলা গাড়িতে উঠে বিজয় মিছিলে ঘোরেন। পূর্ণিমাদেবী বলেন, ‘আমি এই এলাকার ঘরের মেয়ে। জনতার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। যতদিন প্রার্থী ছিলাম ততদিন দলের ছিলাম, এবার আমি দল-মত নির্বিশেষে জনগণের প্রতিনিধি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সৈনিক হিসেবে এবার উন্নয়নের কাজ করার পালা।’
অন্যদিকে এদিন নিউ মার্কেট এলাকায় চলে বুলডোজার। ফুটপাত এবং রাস্তার দখলদারি সরাতে বুলডোজার নামানো হয় বলে জানানো হয়েছে। তবে বুলডোজার চালানোর নির্দেশ কোথা থেকে এসেছে তা স্পষ্ট করা হয়নি। কলকাতা পুরসভার উল্টোদিকে নিউ মার্কেট দুর্গাপুজো কমিটির একটি ক্লাব ছিল ফুটপাতে। সেটি ভাঙা হয়। এছাড়াও নিউ মার্কেট চত্বরে তৃণমূল কংগ্রেস অনুমোদিত এবং তৃণমূলের নেতারা ফুটপাত বা রাস্তা দখল করে যে পার্টি অফিসগুলি বানিয়েছিলেন সেগুলি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় এক ব্যক্তির বাড়ি ঢোকার রাস্তা সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। তা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। ভাটপাড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্যদের নামের প্লেট খুলে দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও খুলে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি গারুলিয়ায় এদিন সন্ধ্যায় তৃণমূল পার্টি অফিস এবং একাধিক কর্মীর বাড়ি হামলা চালানো হয় বলেও উঠেছে অভিযোগ। এর পাশাপাশি জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বনগাঁ হাসপাতাল কালীবাড়ি এলাকায় আফরিন বিরিয়ানি নামে একটি দোকানে যান বিজেপির স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী। আবির মেখে হাতে বিজেপির পতাকা নিয়ে গিয়ে মালিককে দোকান অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে বলেন। সেখানে প্রাচীন কালীমন্দির আছে, সে কারণে বিরিয়ানির দোকান করা যাবে না বলে যুক্তি দেন। পাশাপাশি দোকানের নাম নিয়েও আপত্তি তোলেন।