একই দলের সরকারি প্যানেল থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনজীবী নিয়োগ, হাইকোর্টে আইনজীবী নিয়োগে অর্ধশতকে বেনজির পরিবর্তন
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ ৪৯ বছর পর কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী নিয়োগে নজিরবিহীন পরিবর্তন হতে চলেছে। ফলে আপাতত চলতে থাকা মামলাগুলির সওয়াল জবাবেও বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছে আইনজীবী মহল। এবার একই রাজনৈতিক দলের সরকারের প্যানেল থেকে নিয়োগ হবে রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনজীবী। আর তার জেরেই বদলে যেতে চলেছে সওয়াল জবাবের ধরন।
সরকারি মামলাগুলিতে সওয়াল জবাবের জন্য সরকারি আইনজীবীদের নিয়োগ করে থাকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের হয়ে আইনজীবীরা অ্যাডভোকেট জেনারেলের তত্ত্বাবধানে কাজ করে থাকেন। আর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নিযুক্ত আইনজীবীরা সাধারণত অতিরিক্ত সলিসিটরের নেতৃত্বে কাজ করে থাকেন কেন্দ্রের আইনজীবীরা। ভিন্ন সরকারের তরফে নিযুক্ত হওয়ার কারণে এতদিন একাধিক মামলার সওয়ালে রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধিতার সুরই দেখা গিয়েছে এতদিন। এবার তাতে বদল আসবে বলে মনে করছে আইনজীবী মহল। তাঁদের ধারণা, এবার হয়তো একই সুরে সওয়াল করতে দেখা যাবে উভয়পক্ষকে।
১৯৭৭ সালের আগে অর্থাৎ কংগ্রেস সরকারের আমলে কলকাতা হাইকোর্টে একই রাজনৈতিক দলের সরকার নিযুক্ত রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনজীবীরা কাজ করেছেন। তারপর থেকে আর সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। অর্থাৎ তারপর ৪৯ বছর যাবৎ পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিতে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার চলেছে। ফলে সেই পরিস্থিতি তৈরিই হয়নি। এবার পশ্চিমবঙ্গ ডবল ইঞ্জিন সরকারের অধীনে। ফলে এবার একই রাজনৈতিক দলের তরফে নিযুক্ত হবেন সরকারি আইনজীবীরা। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে অতিরিক্ত সলিসিটর জেলারেল ও ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত একঝাঁক আইজীবীও। তাঁদের ক্ষেত্রে কোনো বদল হবে না। কিন্তু রাজ্যের তরফে নয়া আইনজীবীর প্যানেল তৈরি হবে। বদল হবেন অ্যাডভোকেট জেনারেলও। অ্যাডভোকেট জেনারেল কে হবেন, সেই ব্যাপারে রাজ্য সরকার নামের সুপারিশ পাঠায় রাজভবনে। তার পর রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে রাজ্যপাল তাঁকে নিয়োগ করেন।
আর মঙ্গলবারই পদত্যাগ করছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। তিনি রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ওই বছরেরই ডিসেম্বর মাসে এজি পদে নিয়োগ করা হয় কিশোর দত্তকে। তারপর থেকে একটানা এই পদেই ছিলেন কিশোর।
অন্যদিকে, এদিনই রাজ্য সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত মামলার পক্ষে বা বিপক্ষে এখনই কোনো রায় ঘোষণা না-করার জন্য হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে অনুরোধ করলেন বিজেপির আইনজীবীরা। মঙ্গলবার এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী সুস্মিতা সাহা দত্ত।