নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভোটের ফল ঘোষণার পর শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস। আর সেই উত্তেজনা থেকে রাতারাতি অশান্তি। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া–অশোকনগর এখন তারই সাক্ষী। সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিস এবং দলীয় নেতা–কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর, হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির একাংশ কর্মীর বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর কড়া অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বকে। দলের স্পষ্ট বার্তা, হিংসাকে সমর্থন নয়। প্রমাণ মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলের পর থেকে হাবড়া ও অশোকনগর বিধানসভা এলাকায় বিজেপির জয়ের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় নেমে মিছিল, চলে স্লোগান, গেরুয়া আবিরে রঙিন হয়ে ওঠে এলাকা। কিন্তু চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর সেই উচ্ছ্বাসের আবহে অশান্তির সূচনা হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের পার্টি অফিস এবং দলীয় নেতৃত্বের বাড়ি নিশানা করা হয়। জানা গিয়েছে, অশোকনগর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার টুম্পা সরকারের বাড়িতে সোমবার রাতে হামলা চালানো হয়। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সঞ্জয় রাহার বাড়িতেও হামলা হয়। যদিও সেই সময় তিনি বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। সঞ্জয় বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা কেউই স্বাভাবিকভাবে বাড়িতে ঢুকতে পারছি না। চারপাশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও একই অভিযোগ। অশোকনগরের বাঁশপুল পঞ্চায়েতের প্রধান পূরবী দে’র বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে দাবি। পাশাপাশি হাবড়া পুরসভার ৮, ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং কুমড়া পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিসে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। বহু জায়গায় দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভেঙে দেওয়া, ব্যানার–ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলা এবং দলীয় প্রতীক নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। হাবড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, ভোটে জয়-পরাজয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অঙ্গ। মানুষ বিজেপিকে জিতিয়েছেন, এটাই বাস্তব। কিন্তু তার পর এই ধরনের ভাঙচুর ও হামলা কোনোভাবে কাম্য নয়। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিতে পড়ে দ্রুত সক্রিয় হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল বিষয়টি জানার পর ফেসবুক লাইভে এসে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো বিজেপি কর্মী গণ্ডগোল বা ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। দল এই ধরনের কাজকে সমর্থন করে না। কেউ জড়ালে সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত দায়িত্ব—দল তাঁর পাশে থাকবে না। শুধু সতর্কবার্তায় থেমে না থেকে বিজেপি নেতৃত্ব প্রশাসনকেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানিয়েছে। রাজনৈতিক রং না দেখে, উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় স্তরেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রয়োজনে জড়িত কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। এদিকে বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দলের স্পষ্ট বার্তা, অশান্তি নয়। আর সেই মতো আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। পুলিশকেও বলা হয়েছে, কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে। সব মিলিয়ে ভোট পরবর্তি অশান্তি রুখতে বিজেপির অবস্থান যে ‘জিরো টলারেন্স’ তা বারেবারে বুঝিয়ে দিচ্ছেন নেতৃত্ব। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে, নজর রাখা হচ্ছে পরিস্থিতির উপর।