তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে সরব হলেন কর্মীরা, শুরু বিশ্লেষণ
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আট-এ চার! হাওড়া সদরের ৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে পরাজয় সহজে হজম করতে পারছে না তৃণমূল। এক সময়ের ‘নিরাপদ’ বলে ধরা আসনগুলি এভাবে হাতছাড়া হওয়ায় দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোরদার কাটাছেঁড়া। এদিকে, দলের একাধিক নেতা-কর্মীই এবার মুখ খুলছেন অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অন্তর্ঘাতের অভিযোগ নিয়ে।
উত্তর হাওড়া কেন্দ্রে তৃণমূলের ভরাডুবি সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ওয়ার্ড ছাড়া বাঙালি-অবাঙালি অধ্যুষিত প্রায় সব ওয়ার্ডেই সমর্থন হারাতে হয়েছে। নিকাশি ব্যবস্থা ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবার ঘাটতি যেমন ক্ষোভ বাড়িয়েছে, তেমনই বেআইনি দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যও বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসাবে কাজ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলীয় কর্মীদের অনেকেই বলেন, সাম্প্রতিক শ্যুটআউট এবং মূল অভিযুক্তের সঙ্গে দলের একাংশের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। একই চিত্র শিবপুরেও। এখানে রানা চট্টোপাধ্যায়ের ‘স্বচ্ছ’ ভাবমূর্তি থাকা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি। কর্মীদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে বেআইনি নির্মাণ, পুকুর ভরাট ও সিন্ডিকেট রাজের বাড়বাড়ন্তের উপর নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণ হারায়। নাগরিক পরিষেবার কাজও কার্যত থমকে ছিল, যার খেসারত দিতে হয়েছে ভোটে।
বালিতে পরাজয়ের কারণ হিসাবে নাগরিক পরিষেবার বেহাল দশাই সবচেয়ে বড় ইস্যু বলে উঠে এসেছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বক্তব্য, বালি, বেলুড় ও লিলুয়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙা রাস্তাঘাট, নিকাশির অচলাবস্থা এবং বৃষ্টিতে জল জমে যাওয়ার সমস্যা চরমে পৌঁছেছিল। বহু এলাকায় নিয়মিত পানীয় জলের সংকটও মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। গ্রামীণ হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে পরাজয় ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র। এখানে প্রার্থী নির্বাচনেই ভূল সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলেছেন ব্লক নেতৃত্বের একাংশ। সাংবাদিক সম্মেলনে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রঞ্জন কুন্ডু দাবি করেন, অর্থের বিনিময়ে প্রার্থীপদ দেওয়া হয়েছিল। আগের বিধায়ককে প্রার্থী করা হলে এই ফল হতো না।