ভোটে জিতে মঞ্জু বসুর বাড়িতে অর্জুন, একসঙ্গে কাজের প্রস্তাব
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: ভোটে জেতার পর সার্টিফিকেট নিয়ে রাতেই নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক মঞ্জু বসুর বাড়িতে গিয়েছিলেন অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, তিনি কলঙ্ক মুক্ত হলেন। মঞ্জু বসুকে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি। ২৬ বছর পর নোয়াপাড়ায় শহিদ বিকাশ বসুর বাড়িতে গেলেন অর্জুন। খেলেন মিষ্টি, চা।
নোয়াপাড়ার বিকাশ বসু এক সময় সহযোদ্ধা ছিলেন, সেই সহযোদ্ধাকে খুনের দায়ে জেল খাটতে হয়েছিল অর্জুন সিংকে। মঞ্জু বসুর দাবি, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হল। তাঁকে সেদিন ধর্না মঞ্চে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, তা ভালো চোখে দেখেনি নোয়াপাড়া। তারই প্রভাব পড়ল ভোটে।
অর্জুন সিং রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে সটান চলে যান মঞ্জু বসুর বাড়িতে। পরে তিনি বলেন, বিকাশদার সঙ্গে একসঙ্গে রাজনীতি করতাম। আমাদের নেতা ছিলেন। ২০০০ সালের ১ এপ্রিল তিনি খুন হন। আমার বিরুদ্ধে দায় চাপানো হয়। আজ মঞ্জু বসুর সঙ্গে দেখা করে কলঙ্কমুক্ত হলাম। আমার জয়ের পিছনে ওনার আশীর্বাদ রয়েছে। এবার নোয়াপাড়ায় যে উন্নয়ন হবে, তা মঞ্জুদিকে সঙ্গে নিয়েই করব। প্রসঙ্গত, মঞ্জু বসুকে এবার তৃণমূল টিকিট দেয়নি। উলটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্না মঞ্চে তাঁকে অপমান করেছিলেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নোয়াপাড়ায় এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। তিনি অর্জুন সিংয়ের কাছে বড়ো মার্জিনে হেরে গিয়েছেন। সোমবার রাতে তৃণমূলের অনেক কাউন্সিলার এবং নেতাদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পার্টি অফিসে হামলার পাশাপাশি দখলও হয়েছে।
অর্জুন সিং মঙ্গলবার পরিষ্কার জানিয়েছেন, এটা বিজেপির কালচার নয়। তৃণমূলের কিছু লোক রাতারাতি ভোলবদলে গেরুয়া আবির মেখে এইসব কাণ্ড ঘটাচ্ছে। আমরা এসব প্রশ্রয় করি না। পুলিশকে বলা আছে, যারা এ ধরনের গোলমাল পাকাবে, দলমত নির্বিশেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।