কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা ৬ মাস ধরে জোগাড় করেন তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের ইতিবৃত্ত! টেরই পায়নি রাজ্য সরকার
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ছয় মাস ধরে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা ঘুরে বেড়িয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের স্পেশাল টিম ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। জেলায় জেলায় গিয়ে তাঁরা সংগ্রহ করেছেন সেখানকার রাজনৈতিক হাল হকিকত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে জেনেছেন কারা এলাকার তৃণমূলের দাদা বা মস্তান। তাদের অপরাধের ইতিহাস নিয়ে চলেছে মাসের পর মাস কাটাছেঁড়া। অত্যন্ত গোপনে যে এই তথ্য সংগ্রহ চলছে তা বুঝতেই পারেননি বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের পুলিশ অফিসাররা। আর এই রিপোর্ট জমা পড়েছে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে। তার ভিত্তিতেই কাটাছেঁড়া করে তৈরি হয়েছিল অপরাধীদের তালিকা ও বাংলা দখলের রোডম্যাপ। তার ফলস্বরূপ গোটা ভোটপর্ব মিটেছে অত্যন্ত শান্তিতেই।
বিজেপির এই বিপুল জয় যে সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফসল তা বুঝতে পারছেন পুলিশের অনেক শীর্ষকর্তাই। জেলার বিজেপির নেতারা যে তাঁদের এলাকায় অপরাধীদের তালিকা দিয়েছেন, তা বিশেষভাবে যাচাই করতেই কাজে লাগানো হয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিশেষ টিম মাঠে নেমে পড়ে। দিল্লি থেকে এই টিমের অফিসাররা বারবার এসেছেন রাজ্যে। গ্রাউন্ড রিপোর্ট সংগ্রহ করতে ঘুরে বেড়িয়েছেন জেলার পর জেলা। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে তাঁরা ছড়িয়েছিটিয়ে পড়েছেন।
দিল্লির স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, তাঁরা যে যাতায়াত করছেন সেটা যেন কাকপক্ষীও টের না পায়। তৃণমূল তাঁদের পিছনে লোক লাগিয়ে গোটা মিশনটাই ভেস্তে দেবে। এমনকি, গ্রামবাসীদের ভয় দেখিয়ে আসল চিত্র প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করবে। সেইমতো গোয়েন্দা কর্তারা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিশেষ টিম ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরে বেড়িয়েছেন নিজের মতো করে। চরকির মতো পাক খেয়েছেন একটির পর একটি গ্রাম। প্রতিটি ব্লক ধরে চলেছে তাঁদের বিশ্লেষণ। কীভাবে গ্রামবাসীদের ভোট দিতে দেওয়া হয় না, কারা রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকে, এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায় তৃণমূলের কোন কোন নেতা, তাদের কাছে কী পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, তার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
মমতার দলের যে-সমস্ত গুন্ডা থ্রেট কালচারের জন্য কুখ্যাত, তাদের ছবি ও অপরাধের ইতিহাস খুঁজে বের করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সেই রিপোর্ট নিয়মিত জমা পড়েছে দিল্লিতে। তারপরেও আরো একাধিক কাটাছেঁড়া চলেছে। তার ভিত্তিতে অপরাধীদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা কমিশনে জমা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য বারবার চাপ দিয়েছেন গেরুয়া পার্টির নেতারা। ওই তালিকার বেশিরভাগ অপরাধী এখনো এলাকা ছাড়া। সরকার গঠনের পর তারা যে বিজেপি সরকারের মূল টার্গেট হতে যাচ্ছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল।