ভবিষ্যৎ কী? আতঙ্কে সিভিক সহ রাজ্যের ৫ লক্ষাধিক সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি শূন্যপদ প্রায় ৬ লক্ষ। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি স্তরে কর্মী সংখ্যা এসে ঠেকেছে মাত্র ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪তে। পশ্চিমবঙ্গ এবং কলকাতা পুলিশেও শূন্যপদ অগুনতি। তাহলে কাজ চলে কীভাবে? কারা করেন? এই গোটা সিস্টেম যাঁরা এখন চালান, তাঁরা নিজেরাই এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত। এঁরা সবাই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজ্যের নিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী। সিভিক পুলিশ সহ রাজ্যে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক এবং থার্ডপার্টি চুক্তিভিত্তিক কর্মী সংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষ। চুক্তিভিত্তিক হলেও ৬০ বছর বয়সের আগে তাঁদের চাকরি যাবে না বলে একটি অর্ডার পাশ করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কিন্তু, রাজ্যে পালাবদলের পর সেই অর্ডারে ভরসা রাখতে পারছেন না চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। বিগত বেশ কিছু বছর ধরে কাজ করার পর এখন তাঁরা ভুগতে শুরু করেছে চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতায়। প্রশ্ন একটাই – ‘চাকরিটা থাকবে তো?’
ইতিমধ্যেই বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত যে আধিকারিকদের পুনরায় নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে। আর রিঅ্যাপয়েন্টেড অফিসারদের ‘ছুটিতে যাওয়ারও মৌখিক নির্দেশ’ও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বর্তমানে রাজ্য প্রশাসনে এমন আধিকারিকের সংখ্যা প্রায় ৫০০। পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশের ওএসডিদেরও ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ফল ঘোষণার পর থেকেই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। মঙ্গলবার সকালেও নবান্নের পাওয়ার করিডরের একাধিক জায়গায় দেখা গেল, চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা জটলা বেঁধে এই বিষয়েই আলোচনা করছেন। তাঁদের মধ্যে একজন বললেন, ‘এই তো ক’মাস আগে বিয়ে করলাম। স্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু এখনও তেমন চাকরি পায়নি। রাজ্যের বাইরে চাকরি পেলেও সাংসারিক কারণে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এখানেই চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে আমার চাকরিটা যদি না থাকে, সংসার চালাব কীভাবে?’
রাজ্যের সমস্ত অফিসেই চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডিদের ভরসায় থাকেন পদস্থ কর্তারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার তাঁদের স্থায়ী চাকরিজীবীর মর্যাদা দেবে বলেই আশাবাদী ছিলেন চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। কিন্তু, সামান্য অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা ছাড়া তাঁদের জন্য কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি বলে একটি বড় অংশের অভিযোগ। এই অবস্থায় স্থায়ী কর্মী নিয়োগ না করেই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর খাঁড়া নেমে এলে সম্পূর্ণ ‘সিস্টেম’টাই ভেঙে পড়বে বলে প্রশাসনিক মহলের আশঙ্কা। আবার নিয়োগের পর চুক্তিভিত্তিকদের ছাঁটাই হলেও বিষয়টি লক্ষ লক্ষ কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য একেবারেই ন্যায়সঙ্গত হবে না বলেই মত রাজ্যের আধিকারিকদের। এখন বিজেপি সরকার কোন পথে হাঁটে, সেদিকেই নজর রয়েছে সব মহলের।