নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেনজির সাংবিধানিক সংকটের সন্ধিক্ষণে রাজ্য! মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে ভবানীপুরের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। আর সেই ঘোষণামাত্রই তৈরি হয়েছে এই সংকট।
আজ, বুধবার মধ্যরাতে শেষ হবে চলতি সরকারের মেয়াদকাল। বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন আগামী শনিবার, ৯ মে। এই পর্বে মমতা ইস্তফা দিলে তাঁকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দু’দিন কাজ চালানোর দায়িত্ব দিতেন রাজ্যপাল। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করতে রাজি নন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে কোনো রাজ্যে হয়েছে বলে কেউ মনে করতে পারছেন না। যদিও সংবিধান রাজ্যপালকে যে অধিকার দিয়েছে, তার ভিত্তিতে দু’দিনের জন্য রাজ্য প্রশাসন চালানো এবং নতুন সরকারের শপথগ্রহণ পর্বে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে না বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।
ঠিক কী বলেছেন মমতা? সাংবাদিক সম্মেলনে এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা—‘১০০ আসন লুট করে হারানো হয়েছে আমাদের। মানুষের ভোটে হারিনি, হেরেছি ষড়যন্ত্রের ফলে। পদত্যাগ করার প্রশ্নই ওঠে না। রাজভবনে ইস্তফা দিতে যাব না। ওরা সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।’ মমতার এই ঘোষণার নিন্দা করেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। এক্স-হ্যান্ডলে তাঁর বক্তব্য—‘সংবিধান বিরোধী কাজ এটা। ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলে মানুষের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা। এতে লাভ হবে না। মানুষ তৃণমূলকে বিদায় দিয়েছে। মানুষের রায় না মেনে এই কাজটা, সংবিধানদ্রোহিতা। এতে অবশ্য লাভ হবে না। চলতি বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ৭ মে। এমনিতেই মমতার সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে।’
সাংবাদিক সম্মেলনে মমতার ওই ঘোষণার পরই তৎপরতা শুরু হয়ে যায় রাজভবনে। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান ঘেঁটে এই সংকট মেটানোর উপায় খুঁজতে থাকেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যে ভোট হওয়া ২৯৩টি আসনের বিজয়ী প্রার্থীদের নামের তালিকা এখনও এসে পৌঁছায়নি। কমিশনের তরফে সেই তালিকা নিয়ে আজ, বুধবার সকাল ১১টায় রাজভবনে পৌঁছে যাবেন মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক। তারপরই জয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ পাঠানো হবে। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, আজ, চলতি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই সংবিধানের ১৫৪ বা ১৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা যাবে রাজ্যপালের হাতে, কার্যকর হবে ‘গভর্নরস রুল’। এরপর নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের প্রাকপর্ব পর্যন্ত দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্ম দেখভালের দায়িত্ব মুখ্যসচিবের উপর বর্তাবেন রাজ্যপাল। সংবিধানের ১৬৬ অনুচ্ছেদে সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে।