আজ মুখ্যমন্ত্রী বাছাই, দৌড়ে এগিয়ে শুভেন্দু, মন্ত্রিসভায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ভারসাম্য
বর্তমান | ০৬ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: ২০২১ সালে তৃণমূলের কাছে পরাজয়ের ধাক্কা তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। ভোট পরবর্তী হিংসায় বিধ্বস্ত বাংলায় এসেছিলেন অমিত শাহ। নিউটাউনের এক হোটেলে রাজ্য নেতাদের নিয়ে বৈঠকে সেদিন তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই পরাজয়ে আপনারা হতাশ হবেন না। আমি কথা দিচ্ছি, যতদিন বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা না হবে, শান্তিতে ঘুমাব না। আমি পার্টির কোনও পদে না থাকলেও বাংলার দায়িত্ব আমার হাতে থাকবে। কথা রাখলেন অমিত শাহ। ২০২১ সালের ‘অব কি বার ২০০ পার’ স্লোগান বঙ্গভূমিতে বাস্তবায়িত করলেন বিজেপির ‘চাণক্য’। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে গেরুয়া পার্টি। এবার পালা মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠনের। প্রাক নির্বাচনি নিয়ন্ত্রণের রাশ রেখেছিলেন নিজের হাতে। এবার ভোট পরবর্তী আবহে রাজ্যে দল ও প্রশাসনের সার্বিক কাঠামো ঠিক করতে সেই অমিত শাহই বাজি স্বয়ং নরেন্দ্র মোদির। মঙ্গলবারই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলায় দলের পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পর্যবেক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করেছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহণচরণ মাঝিকে কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রে আজ, বুধবার সকালে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করতে কলকাতায় নামছেন অমিত শাহ। সূত্রের দাবি, আজই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা, অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী মুখ নির্বাচন পর্ব সারা হবে। তারপর রাজভবনে গিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের দাবি জানাবে। শনিবার ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তীতে শপথ নেবে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। ব্রিগেডে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি।
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির অন্যতম বীজমন্ত্রই ছিল ‘উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত’! রাজ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় তাই উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। দলীয় সূত্রের দাবি, কোনোমতেই যেন উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের পিছনের সারিতে রেখে দেওয়া না হয়, সে ব্যাপারে নির্বাচনি ফল প্রকাশের পর থেকেই সচেষ্ট থাকতে বলা হয়েছে দলীয় নেতৃত্বকে। একইসঙ্গে জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের হেভিওয়েটদের হারানো প্রার্থীদের নতুন মন্ত্রিসভায় অগ্রাধিকার দেবে দল। ভবানীপুরে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো শুভেন্দু অধিকারীর নাম নিয়ে আলাদা করে কোনো বিস্ময় বা চমকের ব্যাপার নেই। তবে বাকি যাঁদের দিকে বিশেষ নজর দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন দমদম উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে হারানো সৌরভ শিকদার। সম্পর্কে তিনি প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তপন শিকদারের ভাইপো। তালিকায় রয়েছেন টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসকে হারানো পাপিয়া অধিকারী। দিনহাটায় বিজেপি প্রার্থী অজয় রায় হারিয়েছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট উদয়ন গুহকে। প্রাথমিকভাবে অজয়বাবুও রয়েছেন বিজেপি নেতৃত্বের নেকনজরে। বিধাননগরে সুজিত বসুকে হারানো শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, আসানসোল উত্তরে মলয় ঘটকের বিরুদ্ধে জয়ী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ও রয়েছেন বিজেপির প্রাথমিক পছন্দের তালিকায়। দমদমে ব্রাত্য বসুকে হারিয়েছেন বিজেপির অরিজিৎ বক্সি। পছন্দের তালিকায় রয়েছেন তিনিও। অন্তত এমনই জানা যাচ্ছে বিজেপির শীর্ষ সূত্রে। তবে শুধুমাত্রই তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রীদের হারানো বিজেপি প্রার্থীরাই নন। দলের নিজস্ব জয়ী তারকা প্রার্থীদেরও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে পুরস্কার দিতে চাইছে রাজ্যের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। এই তালিকায় গেরুয়া শিবিরের প্রাথমিক পছন্দের তালিকায় রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, শংকর ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পলের মতো নেতানেত্রী। ইতিমধ্যে নবান্নের রং বদলে গেরুয়া করার নির্দেশ চলে গিয়েছে। বদল হবে নামও। জানা যাচ্ছে, ‘উন্নয়ন ভবন’ নামে সেখানেও থাকবে কিছু বাছাই করা দপ্তর।