• জঙ্গলমহল ‘শূন্য’ ! সেখানে কেন এমন হাল হল তৃণমূলের? নির্বাচনী ফলে সবচেয়ে নজরকাড়া রেজাল্ট
    News18 বাংলা | ০৬ মে ২০২৬
  • আবীর ঘোষাল, কলকাতা: নির্বাচনী ফলে সবচেয়ে নজরকাড়া জঙ্গলমহল। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া আর পুরুলিয়ায় শূন্য হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভাতেও যেখানে দুই সাংসদের জয় পেল শাসক দল। সেখানে দুই বছরের মধ্যে একেবারে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ কী? রাজনৈতিক মহলের মতে, বেছে বেছে সমস্ত অযোগ্যদের দায়িত্ব দেওয়া যাদের সাথে মানুষের কোনও সম্পর্ক নেই।

    জঙ্গলমহলে দিদির প্রতি মানুষের যে আবেগ ও শ্রদ্ধা ছিল সেটা আইপ্যাক নষ্ট করে দিয়েছিল। যেখানে দিদি ছাড়া আর কারো কোনও অস্তিত্ব নেই, সেখানে দিদিকে বাদ দিয়ে আইপ্যাকের তরফে অন্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।পুরনো কর্মীদের সঙ্গে খারাপ-অশালীন ব্যবহার এবং আইপ্যাকের অযোগ্য কর্মীদের হাতে সংগঠন বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা ৷

    এর পাশাপাশি জঙ্গলমহলের মানুষকে ‘Taken For Granted’ ভেবে নেওয়া ৷ ভদ্র মানুষের সঙ্গে অভদ্রের মত আচরণ করা ৷ পয়সা দাও আর চুরির লাইসেন্স নাও। প্রশাসন থেকে শুরু করে দলের নেতা কর্মী অনেকেই এতে জড়িত। লুম্পেনদের দিয়ে সমাজকে রুল করতে চাওয়া। এই কারণগুলিও রয়েছে ৷

    সর্বোপরি ২০০৮ সাল থেকে শুভেন্দু অধিকারী অবাধ যাতায়াত চালিয়েছেন এই জেলাগুলোতে। একটা সময় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে তিনি নিজে জঙ্গলমহল দেখতেন। শাসক হোক বা বিরোধী দলনেতা, তিনি সেই ঘরের ছেলে ইমেজ ধরে রেখেছেন। আর তার ফল এই রেজাল্ট। জঙ্গলমহল জুড়ে তৃণমূল শূন্য।

    ২০২৫ সালের RSS-এর শতবর্ষকে সামনে রেখে ২০২৪ সালে কাতারে কাতারে কর্মসূচি হয়। সেই কর্মসূচি জঙ্গলমহলেও শুরু করে দেওয়া হয়। একেবারে তৃণমূল স্তরে এই কাজ চালিয়ে যায় বনবাসী কল্যাণ আশ্রম, একল বিদ্যালয় ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, RSS সহযোগীদের সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন শাসক দল। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা মানুষের ভুরি ভুরি অভিযোগ আর ক্ষোভের আগুনকে কাজে লাগায় তারা। তবে সেটা এতটাই চুপিসারে হতে থাকে, তা বুঝতেই পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাই ‘আদিবাসীদের পাশে আছি’ এই বার্তার ফসল জঙ্গলমহল থেকে তুলতে ব্যর্থ তৃণমূল কংগ্রেস।
  • Link to this news (News18 বাংলা)