এই সময়, শিলিগুড়ি: সরকারি জমি দখল। পুকুর ভরাট করা। দূষণের নামে জমি গ্রাস। তৃণমূলের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর এ সব অভিযোগ উঠেছে। শিলিগুড়ি ও লাগোয়া এলাকাতেও এই অভিযোগ ছিল। কিন্তু অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা হতো না। সরকারের পতন হতেই জমি পুনরুদ্ধারে নেমে পড়লেন বিজেপি কর্মীরা।
২০২১ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে শিরোনামে এসেছিলেন বিজেপি নেত্রী শিখা চট্টোপাধ্যায়। পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পরে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ককে সেই কঠোর অবস্থানে দেখা গেল। শিখার নেতৃত্বে এ দিন সকালে ফুলবাড়ির রাজীবনগর এলাকায় সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে অভিযানে নামেন শতাধিক বিজেপি কর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পোড়াঝাড়ে মহানন্দা নদীর পাড়ে ১০০ একরের বেশি সরকারি জমি বর্তমানে বেদখল হয়ে রয়েছে। এ ছাড়াও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সাহুডাঙি, নাওয়াপাড়া, কৃষ্ণনগর, জলডুমুরপাড়া এবং ঠাকুরনগর এলাকায় বিঘের পর বিঘে সরকারি জমি মাফিয়াদের দখলে। এমনকী সাহুডাঙির বৈতরণী শ্মশানঘাটের পাশের জমিও প্লট করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। রাজগঞ্জ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের একজন রেভিনিউ অফিসার স্বীকার করেছেন যে, সরকারি প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত জমিতে দখলদারি শুরু হয়েছে। ইতিপূর্বে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনে বহু অভিযোগ জমা পড়লেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ক্ষমতার হাতবদলের ফলে এই ছবিটা রাতারাতি বদলে গিয়েছে। শিখার নির্দেশে মঙ্গলবারই রাস্তায় নেমে গিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। তাঁরা সরকারি জমি উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে দিয়েছেন। ফুলবাড়ি মণ্ডল কমিটির সহ-সভাপতি বাবলু মণ্ডল ও যুব মোর্চার বিধানসভা ইনচার্জ রাজীব সাহার নেতৃত্বে এ দিন অভিযান চালানো হয়। রাজীব বলেন, 'এলাকায় পূর্ত দপ্তরের বেশ কিছু জমি রয়েছে। রাজীবনগরে পূর্ত দপ্তর ও পাশের সরকারি 'খাস' জমিতে একটি ডোবা ছিল, যা সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী মাটি ফেলে ভরাট করে দেয়। জমিটি প্লট করে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। সেই জমি দখলমুক্ত করেছেন বিজেপি কর্মীরা।'
এর পাশাপাশি ফুলবাড়ি ১ ও ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সমস্ত দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি। তৃণমূলের রঞ্জন শীলশর্মাকে প্রায় এক লক্ষ ভোটে হারিয়ে অনাচার-অনিয়মের বিরুদ্ধে জনতাকে পাশে পেয়েছেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। হাতে এসেছে রাজ্যের ক্ষমতা। এতে অনেকটা আত্মবিশ্বাসী বিধায়ক বলেন, 'তৃণমূলের কাজই ছিল জমি দখল করা। সরকারি জমি ব্যবহার করে নিজেদের পকেট ভরা। আমরা এ বার সমস্ত জমি দখলমুক্ত করব।' তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির নেতা রঞ্জন সরকার বলেন, 'তৃণমূলের কেউ এ সবের সঙ্গে জড়িত নয়। বিষয়টি প্রশাসন দেখুক।'