বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম
জঙ্গলমহলে গেরুয়া ঝড়। ঝাড়গ্রামের চার আসনই হারিয়েছে তৃণমূল। আর বিজেপির এই জয়ে খুশি কুড়মি সমাজের মানুষ। তাঁরাই জঙ্গলমহলের বুকে ডাক দিয়েছিলেন ‘নো ভোট টু টিএমসি’।
জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশে আধিপত্য রয়েছে কুড়মি সম্প্রদায়ের। তাঁদের তফসিলি উপজাতি তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবিতে রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে একাধিকবার আন্দোলনে নেমেছেন কুড়মিরা। ২০২৩–এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ঝাড়গ্রামের গড় শালবনিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের উপরে হামলার অভিযোগে কুড়মি সমাজের নেতাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রতিবাদে পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্দল হয়ে লড়াই করে কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নেন কুড়মিরা। তৃণমূলের থেকে দূরত্ব বাড়তে থাকে তাঁদের।
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সরাসরি ‘নো ভোট টু টিএমসি’ স্লোগান তোলেন তাঁরা। কুড়মি সমাজের তিনটি বড় সংগঠন ‘আদিবাসী কুড়মি সমাজ’, ‘কুড়মি সমাজ পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘আদিবাসী নেগাচারি কুড়মি সমাজ’–এর নেতৃত্বদের বিজেপির হয়ে ভোটের ময়দানে নামতে দেখা যায়। ‘কুড়মি সমাজ পশ্চিমবঙ্গ’–এর রাজ্য সভাপতি রাজেশ মাহাতো বিজেপিতে যোগদান করে গোপীবল্লভপুর থেকে বিজেপির প্রতীকে লড়ে জিতেছেন। গোপীবল্লভপুরে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশ কুড়মি রয়েছেন।
জেলা বিজেপির নেতা দেবাশিস কুণ্ডু বলেন, ‘বিজেপির এত ভালো ফলাফলের জন্য কুড়মি ভাইদের অবদান রয়েছে। জঙ্গলমহলের সর্বস্তরের মানুষ বিজেপিকে পূর্ণ সমর্থন করেছে।’ গোপীবল্লভপুরের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাতো বলেন, ‘কুড়মি সমাজের কিছু নেতা বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁত করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। তবে সিংহভাগ কুড়মিদের সমর্থন তৃণমূলের পক্ষেই ছিল নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ইভিএমে কারচুপির করে বিজেপি জিতেছে।’ দেবাশিস পাল্টা বলেন, ‘তৃণমূল হার মেনে নিতে পারছে না। তাই এই ধরনের ভুল তথ্য মানুষের কাছে তুলে ধরছে।’